নাদিয়াকে চাপা দেওয়া সেই বাসচালক ও হেলপার ২ দিনের রিমান্ডে

আরো পড়ুন

ঢাকায় বাস চাপায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাদিয়া আক্তার নিহতের ঘটনায় ভিক্টর পরিবহনের চালক ও তার সহকারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি) শুনানি শেষে রিমান্ডে নেওয়ার এ আদেশ দেন ঢাকা মহানগর হাকিম সৈয়দ মোস্তফা রেজা নূর।

এর আগে চালক লিটন ও তার সহকারী আবুল খায়েরকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই মোহাম্মদ আল ইমরান রাজন আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।

আদালতে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। শুনানিকালে বিচারক আসামিদের কাছে জানতে চান, তাদের কী কিছু বলার আছে?

তখন চালক লিটন বলেন, “আমার মাথা ব্যথা করছিল। এজন্য আমার পরিচিত এক ড্রাইভার আরিফকে গাড়িটি দিয়েছিলাম। পড়ে শুনি এ ঘটনা ঘটেছে। আমার কোনো দোষ নাই। এ ঘটনা শোনার পর আমি আমার এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেই। সেখান থেকে আমাকে ধরে আনে। আমি ওই ড্রাইভারকে ধরার অনুরোধ করছি।”

চালকের সহকারী আবুল খায়ের বলেন, “আমাদের বাসটি দাঁড়ানো ছিল। মোটরসাইকেলের লোকটি হাত ছেড়ে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল আর মহিলাকে কী জানি দেখাচ্ছিল। হাতছাড়া থাকার কারণে মোটরসাইকেলটি পড়ে যায়। পরে আমাদের গাড়ির পেছনের চাকায় ধাক্কা লাগে।”

এরপর বিচারক দুই আসামির দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন, যা আগামী চার কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করতে হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ঠিক করেছেন বিচারক।

বাসের ধাক্কায় ২৪ বছর বয়সী নাদিয়ার মৃত্যু হয় রোববার দুপুরে। বন্ধু মেহেদী হাসানের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে যমুনা ফিউচার পার্কে বেড়াতে গিয়েছিলেন তিনি। ভিক্টর পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দিলে নাদিয়া সড়কে ছিটকে পড়েন। পরে ওই বাসের নিচে পিষ্ট হয়ে তার প্রাণ যায়।

পুলিশ সে সসময় বাসটি আটকাতে পারলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে গিয়েছিল। পরে ওই দিন রাতে সড়ক পরিবহন আইনে ভাটারা থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা জাহাঙ্গীর আলম।

সোমবার ওই বাসের চালক মো. লিটন (৩৪) ও সহকারী আবুল খায়েরকে (২২) ঢাকার বাড্ডা এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

জাগো/আরএইচএম

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ