গোলাপ বেচে বছরে আয় ৩ কোটি

আরো পড়ুন

সড়কের দুই পাশে যতদূর চোখ যায়, শুধু গোলাপ আর গোলাপ। লাল, সাদা, হলুদ তো বটেই, খয়েরি রঙের গোলাপের দেখাও মিলবে সেখানে। কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী গ্রামে গড়ে উঠেছে এমন গোলাপের রাজ্য। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশজুড়ে প্রায় ১০০ একর জমিতে গোলাপের এই বাণিজ্যিক খামার থেকে বছরে আয় ৩ কোটি টাকারও বেশি। গ্রামীণ এ জনপদটিতে সারাবছর গোলাপের চাষ হলেও শীতকালে তা তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল বাগানজুড়ে বিভিন্ন রঙের গোলাপ ফুল। মাঘের মৃদু বাতাসে সেগুলো দোল খাচ্ছে। সারারাত শিশিরে ভেজা গোলাপগুলো সকালের মিষ্টি রোদে অপরূপ সৌরভ ছড়াচ্ছে। বাগান থেকে তুলে আনা তরতাজা গোলাপ ফুলের সুগন্ধ আর নান্দনিকতা মুগ্ধ করছে সবাইকে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বরইতলী গ্রামের অধিকাংশ মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস ফুল। এখানে গোলাপের পাশাপাশি গ্ল্যাডিওলাসেরও চাষ হয়। বরইতলীতে এ বছর প্রায় ১০০ একর জমিতে গোলাপের আবাদ করেছেন স্থানীয় ৯০ জন কৃষক। প্রতিটি বাগান থেকে প্রতিদিন তিন থেকে ছয় হাজার গোলাপ ফুল তোলা হয়।

এ গ্রামের নতুন রাস্তার মাথা, নামারপাড়া, মাইজপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গোলাপের চাষ করা হয়। প্রতিদিন ভোরে বাগান থেকে ফুল তোলেন চাষিরা। বিক্রির জন্য সেগুলো বাছাইয়ের পর ডাঁটা কেটে বেঁধে রাখেন। প্রতিটি বাগানে পাঁচ থেকে ছয়জন শ্রমিক কাজ করেন।

কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, আগে এখানে প্রায় ৩০০ একর জমিতে গোলাপের বাগান ছিল। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির পাশাপাশি কাগজ ও প্লাস্টিকের ফুলের সহজলভ্যতাসহ নানা সংকটে এখন ১০০ একর জমিতে গোলাপ বাগান টিকে আছে। এখানকার এক একর জমির গোলাপ বিক্রি করে বছরে ৩ লাখ টাকা আয় হয় চাষিদের। সে হিসাবে ১০০ একর জমি থেকে বছরে আয় হয় ৩ কোটি টাকা।

গোলাপ চাষিরা জানালেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসসহ বিশেষ দিনগুলোতে এসব ফুলের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। বছরের বাকি সময়েও গোলাপের চাহিদা কম-বেশি থাকে। তবে গত দুই বছর করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে ফুলের বিক্রিতে লোকসান গুনতে হয় চাষিদের। এবারে অবশ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখার প্রত্যাশা করছেন তারা।

স্থানীয় ফুলচাষি জসিম উদ্দিন বলেন, মাঝখানে করোনার দুই বছর খুব কষ্টে দিন কেটেছে পরিবার-পরিজন নিয়ে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টানোর সঙ্গে সঙ্গে চাষ বেড়েছে। আমাদের আয়ও বেড়েছে। এখন পুরোদমে ফুল উৎপাদন হচ্ছে।

একই কথা জানিয়ে ফুল বাগানের শ্রমিক সেলিম উদ্দিন বলেন, সরকার ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় করোনাসংকট কাটিয়ে উঠেছি। এখন সবার ভালো সময় যাচ্ছে। ফুলও ভালো হচ্ছে। এখানকার ফুল চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।

বরইতলী গোলাপ বাগান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম বলেন, আমাদের এখানে ৬০-৭০টি বাগান রয়েছে। এই বাগানের মাধ্যমে কর্মচারীসহ অনেকে জীবিকা নির্বাহ করেন। এখানের এক একর জমিতে সব খরচ বাদ দেয়ার পরও তিন লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।

চকরিয়া উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, আগে জমির পরিমাণ ও কৃষক বেশি ছিল। নানা সংকটে গোলাপ চাষ অনেকটা কমে গেছে। এখন এখানে গোলাপচাষির সংখ্যা ৮০-৯০ জনের মতো। আপাতত সামনে বসন্ত উৎসব, ভালোবাসা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি ও পহেলা বৈশাখ ঘিরে ফুলের বাজার জমজমাট থাকবে। এই কয়েকটি উৎসবেই এখান থকে কোটি টাকার গোলাপ ও গ্ল্যাডিওলাস ফুল বিক্রি হতে পারে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ