জানুয়ারীর শুরু থেকেই পঞ্চগড়ের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। কখনো মৃদু, কখনো মাঝারি। গত কয়েক দিন ধরে জেলার তাপমাত্রা অবস্থান করছে ছয়ের ঘরে। কুয়াশা কিছুটা কমলেও ঠাণ্ডা বাতাস থাকায় শীতের তীব্রতা কমেনি। শনিবার (২১ জানুয়ারী) পঞ্চগড়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সকালেই সূর্যের দেখা মিললেও তেমন উত্তাপ নেই পঞ্চগড়ে। টানা মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহে উত্তরের এই জনপদের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে জেলার নিম্ন আয়ের মানুষের। তেমন কাজ না থাকায় এই সময়ে দৈনিক আয়নির্ভর মানুষের অনেকেই বেকার হয়ে পড়েছেন। নদীর বরফ গলা পানিতে পাথর ও বালি তোলা শ্রমিকদের একটা বড় অংশ বেকার হয়ে পড়েছে। জীবিকার তাগিদে কেউ কেউ কনকনে ঠাণ্ডার মধ্যেই বালি পাথর তুলছেন। এ ছাড়া ভোরে রিকশা-ভ্যান নিয়ে বের হতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষকে। কৃষি শ্রমিকরাও কষ্ট করে কাজ করছেন।
এদিকে প্রয়োজনীয়সংখ্যক শীতবস্ত্র না থাকায় কষ্টে রাত পার করছেন দরিদ্র শীতার্তরা। অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। জেলায় এখন পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারিভাবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে শীতবস্ত্র দেওয়া হয়েছে। তবে জেলার বিপুলসংখ্যক দরিদ্র মানুষের তুলনায় এই সংখ্যা অনেক কম। শুধু শীতবস্ত্র নয়, বেকার হয়ে পড়া শ্রমিকরা ত্রাণ সহায়তার দাবিও জানিয়েছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ বলেন, বর্তমানে পঞ্চগড়ের ওপর দিয়ে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কুয়াশা কিছুটা কম থাকলেও রয়েছে ঠাণ্ডা বাতাস। জানুয়ারিতে আরো দুটি শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস রয়েছে।

