আর মাত্র ৩ দিন পর আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে এমন এক সময়ে যখন রাজনীতিতে নানারকম ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চলছে। রাজনীতির আঁকাবাঁকা পথ এখনো শেষ সীমা দৃশ্যমান নয়। এই মুহূর্তে রাজনীতিতে চলছে নানা রকম কৌশলের খেলা। এই খেলায় কে জিতবে সেটি এখন এক বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। কিছুদিন আগেও যেমন মনে করা হচ্ছিল যে, আওয়ামী লীগ অনেক চাপে রয়েছে, কোণঠাসা হয়ে পড়েছে, বিএনপি উজ্জীবিত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। শেখ হাসিনা একের পর এক কৌশল গ্রহণ করে বিএনপিকে রীতিমতো কোণঠাসা করে ফেলেছেন। আর সেজন্যই এ বার কাউন্সিল অনেক গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি কিছুদিন আগে বিরোধী দলের আন্দোলনকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, বিরোধী দল যদি তার কার্যালয় ঘেরাও করতে আসে তাদেরকে চা দিয়ে আমন্ত্রণ করা হবে। এরপর যখন বিএনপি আন্দোলনের নামে সহিংসতা শুরু করে তখন তিনি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে এতটুকুও বিচলিত হননি। তিনি সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, যে হাত দিয়ে মানুষ পোড়ানো হবে, সেই আগুনে সেই হাত পুড়িয়ে দেয়া হবে। আঘাত এলে পাল্টা আঘাত করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য আওয়ামী লীগকে উজ্জীবিত করেছে, নতুন বার্তাও দিয়েছে।
আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগ যে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত শেখ হাসিনার বক্তৃতায় তার প্রমাণ হয়ে গেছে। একদিকে তিনি যেমন বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সমর্থন দিচ্ছেন অন্যদিকে সীমা লংঘন করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে সেই বার্তাও দিচ্ছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি খুব ভালো মতোই জানেন বিরোধী দলগুলো সামনে বড় ধরনের আন্দোলনের চেষ্টা করবে। এদিকে নির্বাচন বানচালের জন্য একটি মহল সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে সুশীল সমাজ এবং পশ্চিমা কূটনীতিকদের কেউ কেউ নির্বাচন নিয়ে এখন থেকেই নানা রকম পরিকল্পনা আঁটছে। এরকম পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজাতে হবে আগামী কাউন্সিলে। আর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ থাকে দলের সাধারণ সম্পাদক কে হবেন- এ নিয়ে। কয়দিন আগেও মনে করা হচ্ছিল, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হ্যাট্রিক করতে যাচ্ছেন ওবায়দুল কাদের। কারণ আওয়ামী লীগ সভাপতি একাধিক বক্তৃতায় তার ভূষিসী প্রশংসা করেছেন এবং কাউন্সিলের আগে ওবায়দুল কাদেরকে অনেক বেশি দৃশ্যমান দেখা গেছে। দেশের থেকে ওপ্রান্ত তিনি ছুটে বেড়িয়েছেন। বিরামহীনভাবে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বক্তব্য রেখেছেন। আর এ কারণেই সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি অনেকটাই অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কৌশল কি তা ক্রমশ দুর্বোধ্য হয়ে যাচ্ছে। বিরোধী দলের কাছেই কেবল তার কৌশল দুর্বোধ্য নয়, আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের কাছেও তার কৌশল দুর্বোধ্য। তবে তিনি যাকেই সাধারণ সম্পাদক করেন না কেন সামনের দিনগুলোতে রাজনৈতিক আন্দোলন, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং সুশীল সমাজের ভূমিকা সবকিছু বিবেচনা করেই তিনি সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ করবেন।
একটা বিষয় খুব পরিষ্কার তা হলে আওয়ামী লীগ যদি শক্তিশালী থাকে, সংগঠন যদি মাঠে থাকে তাহলে পরে কোনো ষড়যন্ত্রই আওয়ামী লীগকে পরাভূত করতে পারে না। আর এ জন্য এমন একজন নেতৃত্ব হয়তো শেখ হাসিনা বেছে নিবেন, যে নেতৃত্ব দলকে উজ্জীবিত করতে পারবে, ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারবে এবং সার্বক্ষণিকভাবে কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারবেন। আর এইরকম সাধারণ সম্পাদক কে? সেটি হয়তো শেখ হাসিনাই ভালো জানেন। সাধারণ সম্পাদক নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতির কৌশল কি বা তিনি কাকে ভাবছেন তা এখনো এক দুর্বোধ্য কবিতার মতোই। আগামী ২৪ ডিসেম্বর বোঝা যাবে শেখ হাসিনার কৌশল আসলে কি।

