আওয়ামী লীগের সম্মেলন শনিবার, পদ নিয়ে চলছে আলোচনা

আরো পড়ুন

আর বাকি চার দিন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় কাউন্সিলের। কাউন্সিল ঘিরে প্রস্তুতির পাশাপাশি দলে এখন নানা আলোচনা। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক কে হচ্ছেন, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পদে কারা আসছেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে কারা বাদ পড়ছেন, এ নিয়ে দলটির সব পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে। আলোচনায় স্থান পাচ্ছে আগামী কমিটিতে নতুন কারা অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন তা নিয়েও।

তবে দলটির নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে কোনো পরিবর্তন আসছে না। এই পদে বর্তমান সভাপতি শেখ হাসিনাই পুনর্নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনার এই পদে থাকা নিয়ে দলের কারও কোনো দ্বিমত নেই বলে কাউন্সিলররা মনে করছেন।

ক্ষমতাসীন দলটির কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে অনুষ্ঠিত হলো দুই সহযোগী সংগঠন ও এক ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের সম্মেলন। এর মধ্যে মহিলা আওয়ামী লীগ ও যুব মহিলা লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল নিয়ে চলতে থাকা আলোচনার মধ্যেই নতুন করে কানাঘুষাও শুরু হয়েছে। দলটির কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা বলছেন, দুই সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনের পর অবাক হয়েছেন মূল দলের নেতারা। তারা বলছেন, আলোচনায় থাকা পদ-প্রত্যাশীদের কেউই সংগঠন দুটির শীর্ষ নেতৃত্বে আসেননি। অপেক্ষাকৃত কম আলোচিতরাই নির্বাচিত হয়েছেন ওই দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে। কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের আগে এটা কোনো বার্তা কি না তা নিয়ে এখন কার্যালয়, আড্ডায় কানাঘুষাও চলছে।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, এত দিন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন নিয়ে যে ধরনের আলোচনা হচ্ছিল, এখন সেই আলোচনায় কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। তবে যেসব আলোচনা হচ্ছে, সেগুলো ধারণামাত্র। কাউন্সিলে কমিটি গঠনের ক্ষমতা সভাপতিকেই দেয়া হয়। তাই দলীয় নেত্রী কী করবেন সেটা একান্তই তার ব্যাপার। তবে জাতীয় সম্মেলনের আগে সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনে নেতৃত্ব নির্বাচনের ফর্মুলার প্রভাব থাকতে পারে মূল দলের নেতৃত্ব নির্বাচনে।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, সম্মেলন সামনে রেখে এখন প্রশ্ন হচ্ছে সভাপতি শেখ হাসিনার রানিং মেট হচ্ছেন কে? আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ ঘিরেই মূল আলোচনা এখন দলের ভেতরে-বাইরে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সাধারণত রেওয়াজ অনুযায়ী আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর ডেলিগেটরা সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনাকে নির্বাচিত করেন। সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা তার রানিং মেট হিসেবে দলের একজন নেতাকে বেছে নেয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ওই নেতাকেই কাউন্সিলর-ডেলিগেটরা কণ্ঠভোটে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করে থাকেন। এই রেওয়াজেই আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়ে আসছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, নবীন-প্রবীণের সমন্বয় বরাবরই আমাদের নেত্রী দক্ষতার সঙ্গে ঘটিয়েছেন। আওয়ামী লীগ যেমন গুণীর দক্ষতার স্বীকৃতি দিতে জানে, তেমনি যাদের অবদান আছে তাদের স্বীকৃতি দিতে জানে। নেত্রী নির্বাচন দক্ষতার সঙ্গেই নেতৃত্ব নির্বাচন করেছেন।

দলটির একাধিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বর্তমান দায়িত্ব পালনকারী ওবায়দুল কাদের ফের এই পদে নির্বাচিত হতে পারেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের মুখে এবারের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন নাও আসতে পারে বলে দাবি ওই সূত্রগুলোর।

তবে পরিবর্তন এলে দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের নাম বেশি শোনা যায়।

সূত্রগুলো দাবি করছে, দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পর্যায়ে কয়েকটি পরিবর্তন হতে পারে। চার মেয়াদে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মাহবুবউল আলম হানিফ ও দীপু মনি পেতে পারেন পদোন্নতি। সাধারণত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক থেকে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পদে পদোন্নতি পেয়ে থাকেন নেতারা। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার প্রত্যাশায় বর্তমান কমিটির অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক বেগম ওয়াসিকা আয়শা খান এবং আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ।

রেওয়াজ অনুযায়ী, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে চার মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী আহমেদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল ও আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপনের পদোন্নতি হতে পারে। সম্পাদকমণ্ডলীতে দায়িত্ব পালনে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করায় কেউ কেউ পদোন্নতি পেয়ে আসতে পারেন সাংগঠনিক সম্পাদক পদে। সেক্ষেত্রে সুজিত রায় নন্দী, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, নির্বাহী পরিষদ সদস্য রিয়াজুল কবির কাওসার ও আনোয়ার হোসেনের নাম আলোচনায় আছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রের দাবি, সরকার ও দলকে আলাদা করতে গত সম্মেলনে দলের দায়িত্ব থেকে বাদ পড়েন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তারা নতুন কমিটিতে ফিরতে পারেন বলেও ধারণা করছেন কেউ কেউ। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকীয় পদ থেকে বাদ পড়া একজন সাবেক মন্ত্রীও ফিরতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ পদে।

দলের একটি সূত্র মনে করে, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে আওয়ামী লীগের কমিটি গঠিত হয়ে থাকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা বলেন, আগামী নির্বাচন ও রাজনৈতিক এই পরিস্থিতিতে নেত্রী (আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা) দলে অপেক্ষাকৃত তরুণ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা নির্বাচন করতে চান। সে ক্ষেত্রে সাবেক ছাত্রনেতাদের দিকেই সজাগ দৃষ্টি আছে। আস্থাও রাখতে চান ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার প্রতি। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন দলের শীর্ষ এক নেতা। ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, কমিটিতে খুব বেশি পরিবর্তন আসবে না। সর্বোচ্চ ২০ জন নতুন মুখ আসতে পারে।

এ ক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মসিউর রহমান হুমায়ুন, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব ও মাগুরার সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর, ভোলার সংসদ সদস্য ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপপ্রেস সচিব নকিব আহমেদ মান্নু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, সহ-সভাপতি আবদুল মতিন, খ ম হাসান কবির আরিফ, সাইফুদ্দিন আহমেদ নাসির, এ এইচ এম মাসুদ দুলাল, আশরাফ আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমান্ত তালুকদার, সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান খলিল, সাবেক দফতর সম্পাদক কাজী নাছিম আল মোমিন রূপক, প্রশান্ত বড়ুয়া, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান খলিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নির্মল গোস্বামী।

নারী কোটায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেতে আলোচনায় রয়েছেন মহিলা আওয়ামী লীগের সদ্য বিদায়ী সভাপতি সাফিয়া খাতুন, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম, যুব মহিলা লীগের সদ্য বিদায়ী সভাপতি নাজমা বেগম, সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল প্রমুখ।

দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে সম্মেলন অনুষ্ঠানের জন্য ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নির্বাচন হয় সম্মেলনের মাধ্যমে। সম্মেলনে অংশ নেয়া কাউন্সিলররা আমাদের নেত্রীকে দলের শীর্ষ পদে নির্বাচন করেন। অন্যান্য পদে নির্বাচনের দায়িত্ব নেত্রীকেই দিয়ে থাকেন কাউন্সিলররা।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ