ডলার সংকটে বিদ্যুৎ কেনার বিল দিতে পারছে না পিডিবি

আরো পড়ুন

ডলার সংকট ও অর্থের অভাবে বিদ্যুৎ কেনার বকেয়া বিল দিতে পারছে না বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এরই মধ্যে আট মাসের বিল বকেয়া পড়েছে। মূলত আইপিপি (স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদক), রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভারত থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুতের বিপরীতে এ বকেয়া হয়েছে। বকেয়া আট মাসের মধ্যে চার মাসের বিল পরিশোধে অর্থ বিভাগের কাছে টাকা চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ভর্তুকি বাবদ চাওয়া এ টাকার পরিমাণ ১৭ হাজার ৭৬৩ কোটি ৪৪ লাখ। বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এসব তথ্য জানান।

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেন, পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ার পরও ইউনিটপ্রতি ৪ টাকার মতো লোকসান হচ্ছে। ইউনিটপ্রতি গড় উৎপাদন খরচ ৯ টাকা ৭২ পয়সা। বিক্রি করছি ৬ টাকা ১৯ পয়সায়।

বিল বকেয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, বেসরকারি খাত থেকে যে বিদ্যুৎ কিনি, সেই বিল পরিশোধে ৯০ দিনের সুবিধা পাই। বিল মাসের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে দিতে হয়। সেই হিসেবে এখন মূলত পাঁচ মাসের বিল বাকি। এর মধ্যে চার মাসের ভর্তুকির টাকা চাওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আইপিপি, রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল এবং ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের মূল্য যথাসময়ে দিতে হয়। তা না হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হতে পারে। উল্লিখিত চার খাত থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রি করায় গত এপ্রিলে ট্যারিফ ঘাটতি ছিল ৪ হাজার ১৮৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

আর গত মে থেকে জুলাই পর্যন্ত ট্যারিফ ঘাটতি ছিল ১৩ হাজার ৫৮০ কোটি ১১ লাখ টাকা। মোট চার মাসে ট্যারিফ ঘাটতি দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৭৬৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। গত ১১ ডিসেম্বর বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব সাইফুল ইসলাম আজাদ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে ঘাটতির এ টাকা ভর্তুকি হিসেবে সহায়তা দেয়ার জন্য অর্থ বিভাগের কাছে অনুরোধ করা হয়।

পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি, বিভিন্ন ঋণ পরিশোধ, ৩৫টি বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি আমদানি, বাংলাদেশ-চীন পাওয়ার প্লান্টের (পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র) জন্য কয়লা আমদানি, আইপিপি থেকে কেনা বিদ্যুৎ ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রতি মাসে ৩৭৭ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রয়োজন হয়।

এর মধ্যে প্রতি মাসে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে ৫৪ দশমিক ৫০ মিলিয়ন, ঋণ পরিশোধে ১১ দশমিক ৭৬ মিলিয়ন, বেসরকারি ৩৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য মাসে জ্বালানি তেল আমদানিতে ১৮০ মিলিয়ন, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ৯৪ দশমিক ৫০ মিলিয়ন, আইপিপি থেকে বিদ্যুৎ কিনতে ২৮ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হয়।

ওই কর্মকর্তা আরো জানান, বিদ্যুতের বিল সবই পরিশোধ করতে হয় মার্কিন ডলারে। কিন্তু দেশে ডলারের সংকট তৈরি হওয়া এবং দাম বেড়ে যাওয়ায় বকেয়া বিল জমে গেছে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ