জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্যদের (এমপি) সংসদ থেকে পদত্যাগের বিএনপির আহবান প্রত্যাখ্যান করেছে দলটি।
শনিবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ থেকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান জাপার এমপিদের সংসদ থেকে পদত্যাগের আহবান জানান।
তিনি বলেন, বিএনপির সাত এমপি সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। জাতীয় পার্টির এমপিদের বলব, আগামীকালের মধ্যে আপনারাও পদত্যাগ করে জনতার কাতারে চলে আসুন। জনগণ আর এক মুহূর্তও এই সরকারকে চায় না।
বিএনপির এই আহবান প্রত্যাখ্যান করে জাপার মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ওনারা কী আহবান করল, সেটা আমাদের বিষয় না। আমাদের কী করতে হবে, সেটা আমরা সিদ্ধান্ত নেব। তাদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের আন্দোলনে আমাদের কোনো অংশগ্রহণও নেই।
তিনি আরো বলেন, সরকার পতনের আন্দোলনে আমরা বিশ্বাসী না। আমরা সরকারের সমালোচনা করি। সরকার পতনের জন্য আন্দোলন করি না। আমরা আন্দোলন করি জনগণের কাছে সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরার জন্য। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের পরিবর্তন হোক এবং যেই ক্ষমতায় আসে আসুক, সেজন্য আন্দোলন করি।
বিএনপির সুবিধার জন্য আহমেদ আজম খান জাপাকে সংসদ থেকে পদত্যাগ করতে বলেছেন বলে মনে করেন মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি বলেন, আজম সাহেব যেটা বলেছেন, এটা তো বিএনপির সুবিধার জন্য বলেছেন। আমরা যদি তাদের সঙ্গে আন্দোলনে যাই, সেটা তাদের জন্য ভালো। কিন্তু আমরা কেন যাব? ওনারা ক্ষমতায় থাকতে আমাদের আওয়ামী লীগের চেয়েও বেশি অত্যাচার করেছে। তো আমরা কী করে বুঝব ওনারা ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগ যা করেছে তা ওনারা করবেন না? কাজেই ওনার এই কথার সঙ্গে আমাদের রাজনীতির কোনো মিল নেই।
তা ছাড়া সংসদ থেকে পদত্যাগ করলেই সরকার পড়ে যাবে, এটা জাপা বিশ্বাস করে না বলেও জানান জাপা মহাসচিব।
‘ওনারা (বিএনপির সংসদ সদস্য) এখন পদত্যাগ করেন কেন এমন প্রশ্ন তুলে জাপার মহাসচিব বলেন, ওনারা তো বলেছেন, ২০১৮ সালের নির্বাচন খুব খারাপ হয়েছে। তা হলে ওনারা চার বছর এমপি থাকলেন কীভাবে? এর জবাব কী দেবেন। কাজেই ওনারা কী আহ্বান করলেন, সেটা আমাদের বিষয় নয়। আমরা নিজস্ব রাজনীতি করি। আমাদের নিজস্ব রাজনৈতিক কৌশল আছে। আমরাও সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করি, মিছিল করি, সমাবেশ করি। আন্দোলনের অর্থ জনগণের জন্য কথা বলা। সেটা পার্লামেন্টের মাধ্যমে হতে পারে, সমাবেশের মাধ্যমেও হতে পারে।’
গতকালের সমাবেশে বিএনপি নেতা আহমেদ আজম খান আরো বলেন, আগামী নির্বাচনে ভোট হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। শেখ হাসিনা ও তার সরকারের পদত্যাগের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হবে। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করবে। মাঠে যে লোক, তার বাইরে আরও ১০ গুণ মানুষ রাস্তায় রয়েছে। আমাদের এমপিরা তাদের সামনে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। আমি বলতে চাই, এটি ১০ নম্বর সমাবেশ না, ১০ নম্বর সতর্কসংকেত। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হবে।

