বিয়ে করেছেন ১০ মাসও হয়নি। দ্বিতীয় সংসারেও অশান্তি হানা দিয়েছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল সারিকা সাবরিনের। স্বামী জিএস বদরুদ্দিন আহমেদ তার কাছে যৌতুক দাবি করে অত্যাচার ও নির্যাতন করছিলেন। তাই তার নামে মামলা করেছেন সারিকা।
সেই মামলায় জিএস বদরুদ্দিন আহমেদের (রাহী) বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। পুলিশ তাকে খুঁজছে। যেকোনো মুহূর্তে আটক হতে পারেন তিনি।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারাহ দিবা ছন্দা এ পরোয়ানা জারি করেন। এর আগে একই আদালতে মামলাটি করেন অভিনেত্রী।
জানা গেছে, আদালত পরোয়ানা সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন। সারিকার আইনজীবী মাসুদুর রহমান মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলায় সারিকার অভিযোগ, গত ২ ফেব্রুয়ারি পারিবারিকভাবে সারিকা ও বদরুলের বিয়ে হয়। বিয়েতে ২০ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয়। বিয়ের সময় সারিকার বাবা-মা আসামি বদরুদ্দিনকে ২৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকারসহ বাসার যাবতীয় আসবাব উপহার হিসেবে প্রদান করেন। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই আসামি বদরুদ্দিন আবারো সারিকার পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে তাকে মারধর করতে থাকেন।
এ নিয়ে বিরোধ বাড়তে থাকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। অবশেষে গত ৫ নভেম্বর সারিকার কাছে যৌতুকের ৫০ লাখ টাকা এনে দিতে বলেন বদরুদ্দিন। যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় সারিকার চুলের মুঠি ধরে এক কাপড়ে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
গত ১৯ নভেম্বর ঢাকার ধানমন্ডিতে এ বিষয়ে এক সালিস বৈঠক হয়। বৈঠকের একপর্যায়ে আসামি বলেন, ব্যবসার জন্য তাকে ৫০ লাখ টাকা দিতে হবে। দাবি করা টাকা না দিলে সারিকার সঙ্গে সংসার করবেন না তিনি।
সারিকাকে তালাক দিয়ে বেশি টাকা যৌতুক নিয়ে অন্যত্র বিয়ে করবেন জানিয়ে দ্রুত চলে যান।
তাই আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন সারিকা৷
বদরুদ্দিন সারিকার দ্বিতীয় স্বামী। এর আগে ২০১৪ সালের ১২ আগস্ট বন্ধু মাহিম করিমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের বাসিন্দা মাহিম পেশায় একজন ব্যবসায়ী। সাত বছর প্রেমের পর মাহিমের গলায় মালা পরান সারিকা।
বিয়ের এক বছরের মাথায় সারিকার কোলজুড়ে আসে কন্যাসন্তান। ২০১৬ সালে সারিকার সেই সংসার ভেঙে যায়।

