আসন্ন যশোর রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিস্তার অভিযোগ করেছেন সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আসাদুজামান মিঠু।
সোমবার (২৮ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রেসক্লাব যশোরের এক সংবাদ সম্মেলন এই অভিযোগ করেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি বলেন, রেডক্রিসেন্টের মূলনীতি হিসেবে মানবতা, পক্ষপাতহীনতা, নিরপেক্ষতা, স্বাধীনতা, স্বেচ্ছামূলক সেবা, একতা ও সার্বজনীনতা বিষয়গুলো ১৯৬৫ সালে অক্টোবরে ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গৃহিত হয়। অথচ যশোর রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের নির্বাহী নেতৃত্বের দ্বারা এসব মূলনীতিই পদদলিত করা হয়েছে। আপনাদের জানা দরকার, নামকাওয়াস্তে নির্বাচনী তফশিল ঘোষণা করা হলেও মূলত এই নির্বাচনের কথা কেউ জানতেও পারতেন না, যদি আমি শেষ মুহূর্তে প্রার্থী না হতাম। কারণ, রাতের আঁধারে আবারো কমিটিকে নিজের পকেটে ভরার সকল আয়োজন অতি গোপনে সম্পন্ন করা হয়েছিলো। আপনারা সকলেই জানেন, ২৪ নভেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার যশোর আগমনকে ঘিরে প্রশাসন, রাজনৈতিক অঙ্গণ, মিডিয়া তথা গোটা যশোর যখন তুমুল ব্যস্ত সময় পার করছে, ঠিক তখন অতি গোপানে নির্বাচনী তফশিল ঘোষণা করা হয়। শুনলে অবাক হবেন যে, ১৫ নভেম্বর ঘোষিত নির্বাচনী তফশিল অনুযায়ী ২১ নভেম্বর ছিলো মনোনয়নপত্র কেনার শেষ দিন। অথচ, আমাকে নির্বাচনী তফশিলের চিঠি ডাকযোগে পাঠানো হয় ২২ নভেম্বর। আরো মজার বিষয় হচ্ছে, ডাকযোগে পাঠানো খাম পেয়েছি, কিন্তু ভেতরে কোনো চিঠি ছিলো না। আমার বিশ্বাস, আমার মতো আরো অনেকে এমন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাদের এই প্রতারণা, তাদের এই ধৃষ্টতা আমদেরকে মর্মাহত করেছে, করেছে ক্ষুব্ধ। তারা এইভাবে রেডক্রিসেন্টের মতো প্রতিষ্ঠানের সম্মানীত সদস্য তথা ভোটারদের সাথে এই প্রতারণা করেছে স্রেফ ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখার জন্য। তার প্রতিবাদ হিসেবে, সম্মানীত সদস্যদের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই আমি শেষ মুহূর্তে হলেও সেক্রেটারি পদে প্রার্থী হয়েছি।
বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি যশোর ইউনিটের নির্বাচন নিয়ে কি নোংরা খেলা হয়েছে তা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না। এই প্রতিষ্ঠানকে জরাজীর্ণ করে রেখে যেনতেনভাবে চালিয়ে কোনোভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতেই ভোটার তালিকা দীর্ঘ দেখাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন সম্মানীত মৃত ব্যক্তিকে ভোটার দেখানো হয়েছে। সাবেক এমপি শাহ হাদীজ্জামান (১০৯), সাবেক এমপি এ্যাডভোকেট খান টিপু সুলতান (১৫৫), এডভোকেট কাজী আব্দুস শহীদ লাল (৬৭), অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা (৭৮), আলী আকবর (১৩০), রমেন্দ্রনাথ মন্ডল (০৫), ওবায়দুল কাদের (৫৩), ডাক্তার কাজী আজিজুল হক (২৫), এমনকি রেডক্রিসেন্টের সাবেক সেক্রেটারি আবু সাঈদ (১০) ও বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রাজেক আহম্মেদ (৪৬২) সহ অন্তত পঞ্চাশজন মৃত ব্যক্তিকে ভোটার তালিকায় রাখা হয়েছে। এধরণের ধৃষ্টতা ইতোপূর্বে যশোরে আর কোথাও কোনো প্রতিষ্ঠানে কখনো দেখা যায়নি। শুধু তাই নয়, এই ডিজিটাল যুগেও রেডক্রিসেন্টের মতো প্রতিষ্ঠানে কোনো ভোটার তালিকায় কোনো ভোটারের মোবাইল কিংবা টেলিফোন নম্বর রাখা হয়নি, অধিকাংশ ঠিকানা সঠিকভাবে লেখা নেই, এমনকি, ২১ ও ৫১৪ নম্বর ভোটার মুসলিম হলেও তাদের পিতার নাম হিন্দু দেখানো হয়েছে। এ ধরণের অজস্র অসংগতি অন্যায় অবিচার আর অনিয়মকে পুঁজি করেই ব্যক্তি বিশেষ ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে দীর্ঘদিন ধরে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি পরিচালনা করছেন। নিবাচনে স্বচ্ছ করার দাবি জানান আসাদুজামান মিঠু।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যশোর রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি এজেড এম সালেক, জবেদ আলী, খলিলুর রহমান, হাসান সাইদ, আক্তার জাহিদ শাহীন, কাজী সাদাত হোসাইন পলাশ প্রমুখ

