যশোর প্রতিনিধি
যশোরে বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দীন বলেন, আগামী ২৪ নভেম্বর আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশ রুপ নিবে জনসমুদ্রে। আওয়ামী লীগের এই জন সভা রাজনীতিতে বড় এক পরিবর্তন আসবে। আর যশোরে এই জনসমুদ্রে ঢেউ দেখে দেশ থেকে পালাবে জামাত-বিএনপি।
সমাবেশের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সোমবার (৭নভেম্বর) বিকেল ৩টায় বিডি হলে বৃহত্তর যশোর জেলা (যশোর, নড়াইল, ঝিনাইদহ ও মাগুরা) আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্ততায় তিনি এই কথা বলেন।
বিশেষ বর্ধিত সভায় তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা বিশ্বনেতী। তাকে বিশ্বের বড় বড় রাষ্ট্রপ্রধানরা সন্মান করেন; তার পরামর্শ গ্রহণ করেন। আড়াই বছর পরে জনসভা করছে স্বাধীন জেলা যশোরের। যশোরের মাঠে শেখ হাসিনার ঘাটি। আমরা আবারো ঐক্যেবদ্ধ হয়ে শয়তান বিএনপিকে দেশ ছাড়া করবো। আর এই জনসভায় যশোর স্টেডিয়ামে ৫লক্ষের উপরে লোক সমাগম হবে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশে উন্নয়নের জোয়ার হয়। বিএনপি ২০/৩০জন মিলে বন-জঙ্গলে মিটিং করে ফেসবুকে ছবি দিয়ে বলে বিশাল জনসভা করেছি। এই শয়তানি-ভন্ডামি জনসাধারণ সব বঝে। দলমত নিবিশেষে সবাই মিলিত হয়ে শয়তানকে বিতরিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিন বাঙালি জাতির মায়ের দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের জনগণের যখন যেটা প্রয়োজন; তখন সেটা দিয়ে যাচ্ছেন। জনগণ আওয়ামী লীগের পাশে আছে। শেখ হাসিনা আপনাদের আরও বেশি বেশি দিবে।’
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আওয়ামী লীগ কর্মী সভা করলে জনসভা হয়; জনসভা করলে জনসমুদ্রের রুপ নেই। কিন্তু বিএনপি সমাবেশের ঘোষণা দিলেও কর্মী সভার লোকও হাজি হয় না। ২০০১ সালে বিএনপি দেশের মানুষের শান্তি নষ্ট করে। তারা জ্বালাও পুড়াই করেছে। তারা পিতার সামনে মেয়েকে ধর্ষন করেছে। তারা সংখ্যালঘুদের দেশ ছাড়া করে জায়গা জমি দখল করেছে। সাধারণ মানুষ কি চাই বুঝবে কি করে হানাদার বাহিনীর সহযোগী জামাত-বিএনপিরা। বাংলাদেশের মানুষ শেখ হাসিনার সরকারের সাথে আসে; তা প্রমাণ করে দিবে ২৪তারিখের জনসভার মাধ্যমে।’
অন্যদিকে বিশেষ অতিথি সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) বি এম মোজাম্মেল হক এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে এনেছে। সেখানে জিয়ার অনুসারীরা স্বাধীন দেশটাকে আবারো পাকিস্তানের হাতে তুলে দিতে চাই। খুনি জিয়ার বিএনপি শুধু হত্যা করতে জানে। তারা জনগণকে ভালোবাসতে জানে না। বিএনপি জনণনকে খেতে দিতে জানে না বরং খাবার কেড়ে খেতে জানে। আওয়ামী লীগের দিকে তাকিয়ে দেখলে বুঝতে পারবেন; আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে কৃষকের ঘরে ধান চাল ভোরে গেছে। এখন আর সারে জন্য গুলি খেতে হয় না। কৃষকেরা এখন সময় মতো সার কিনতে পারে। মানবতার মা শেখ হাসিনা ঘরে ঘরে খাবার পৌছিয়ে দিচ্ছে।’
অপরদিকে বিশেষ অতিথি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, শকুনের দল বিএনপি আবারাও চক্রান্ত করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধ। ২৫মার্চ বাংলাদেশের মানুষের উপরে হত্যা করেছিলো পাকিস্তার। পাকিস্তানের অনুসারীরা ২০০১ সালে খুন-হত্যায় মেতে ওঠে। আবারও বিএনপি মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে; এবার বুঝি ঘরে ঘরে রক্তের বণ্যা বয়ে দিতে চাই বিএনপি। আল্লাহ পরে একজনি রক্ষা করতে পারে শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সরকার আবারও ক্ষমতায় এসে দেশ ও জনগণকে রক্ষা করবে।’
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এমপির সঞ্চলনায় বক্তব্যে রাখেন সন্মানিত অতিথি বাগেরহাট-২ আসন সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়, কেন্দ্রীয় ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য খালেদা খানম, যশোর পৌর মেয়র হায়দার গণি খান পলাশ, ঝিনাইদহে আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু, ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, সাবেক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, কালীগঞ্জরে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার, যশোর অভয়নগরে চেয়ারম্যান শাহ ফরিদ জাহাঙ্গীর, যশোর সদর আসনের সংসদ সদস্য নাবিল আহমেদ, যশোর সদর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, শার্শা-১ আসনের সংসদ সদস্য আফিল উদ্দিন ও যশোর- ৪ আসনের সংসদ সদস্য রণজিৎ কুমার রায়।
জাগো/আরএইচএম

