যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ও যশোর মেডিকেল কলেজে কর্মরত ১০৩ চিকিৎসকের মধ্যে ৭০ জন ছুটি নিয়েছেন। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে একযোগে ছুটি নেয়া চিকিৎসকরা বর্তমানে সপরিবারে অবস্থান করছেন কক্সবাজারে।
ফলে গত ১০ অক্টোবর থেকে হাসপাতাল কার্যত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শূন্য। আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ অবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ ।
ইন্টার্ন ও সেবিকা দিয়ে চলা হাসপাতালে একের পর এক রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। গত সোমবার ও মঙ্গলবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগী মারা গেছেন ১৬ জন। রোগী ভর্তির হারও নেমেছে অর্ধেকে। যারা ভতি আছে, তাদের চিকিৎসা না দিয়ে দেয়া হচ্ছে ‘ধমক’, বলা হচ্ছে অন্য জায়গায় চিকিৎসা নিতে।
সূত্রে জানা গেছে, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র, সহকারী রেজিস্টার ও মেডিকেল অফিসার মিলে মোট ৭০ চিকিৎসক ঐচ্ছিক ছুটি নিয়েছেন। এর মধ্যে খুলনা স্বাস্থ্য পরিচালকের কাছ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবারের জন্য তিনদিনের ছুটি নিয়েছেন। আবাসিক মেডিকেল অফিসারসহ বাকি ৬৮ জন তত্ত্বাবধায়কের কাছ থেকে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ছুটি নিয়েছেন। এর মধ্যে ১৯/২০জন ঐচ্ছিক ছুটি নিয়েছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ওই চিকিৎসকরা অফিস করবেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে একযোগে হাসপাতালের ৭০ জন চিকিৎসক ছুটিতে যাওয়ায় হাসপাতালে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মেডিকেল কলেজের ২/১জন সিনিয়র ও ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং হাসপাতালের সেবিকাদের ওপর ভরদিয়ে চলছে সেবা কার্যক্রম। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভর্তি খাতা অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুর তিনটা পর্যন্ত বিভিন্ন রোগে ৭৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদিন হাসপাতালের ৪৭২ জন রোগী অবস্থান করছিলেন। এর আগে সোমবার রোগী ভর্তি হয়ে ছিল ১৫৬ জন, এ সময় ৫৮৫ জন রোগী হাসপাতালে অবস্থান করে। এর আগে যেখানে হাসপাতালে বিভিন্ন রোগ নিয়ে ১৯৫ থেকে ২৩০ জন রোগী ভর্তি হতেন। সেখানে চিকিৎসক না থাকায় রোগীও ভর্তি কম হচ্ছে । তবে হাসপাতালে ১৫টি ওয়ার্ডে উপযুক্ত চিকিৎসা না পেয়ে দু’দিনে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ৬জন এবং মঙ্গলবার ১০ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। অথচ পূর্বে দিন প্রতি রোগী মৃত্যু হতো ৩ থেকে ৪জন।
বুধবার সকালে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, পুরুষ ও মহিলা মেডিসিন, সার্জারি ওয়ার্ডে এবং মডেল ওয়ার্ডে বেড প্রতি রোগী ভর্তি আছেন। অথচ দু’দিন আগেও এই ওয়ার্ডগুলোতে পা ফেলার স্থান ছিল না। প্রতিটি বেডের নিচের ফ্লোরেও থাকতো রোগী ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেবিকারা জানান, চিকিৎসকরা রয়েছেন নামমাত্র । মেডিকেল কলেজের কিছু সিনিয়র চিকিৎসকের রাউন্ড দেয়ার কথা থাকলেও তারা রাউন্ডে আসছেন না। তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রাউন্ডে এসে রোগীর সমস্যা মোবাইল ফোনে সিনিয়রদের জানিয়ে সেবা দিচ্ছেন । হাসপাতালের একাধিক ভর্তি রোগী অভিযোগ করেছেন ডাক্তার পাওয়া যাচ্ছে না। যারা আছেন তারাও বাড়িতে যেতে বলছেন ।
মডেল ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ঘোপ সেন্ট্রাল রোড এলাকার আলী হোসেন জানান, সোমবার চিকিৎসক ওয়ার্ডে আসেননি। তবে মঙ্গলবার ডা. আহাদ আলী ওয়ার্ডে এসে সব রোগীকে বাড়িতে চলে যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র দেন । আমাকেও ছাড়পত্র নিয়ে বাড়িতে চলে যেতে বলেন। প্রতিবাদ করায় ছাড়পত্র দেননি চিকিৎসক।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ আলী মোড়ল জানান, হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে চিকিৎসকরা বেড়াতে গিয়েছেন। কিন্তু কতজন গেছেন সে বিষয়ে বলতে পারবো না।
তিনি বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে কোনো সমস্যা নেই। সঠিকভাবে সেবা কার্যক্রম চলছে। রোগীদের অভিযোগ থাকবে এটাই স্বাভাবিক, যত সেবা দেওয়া হোক না কেন রোগীদের মন ভরবে না।

