গাজীপুরের শ্রীপুরে চুরির অপবাদ দিয়ে রানা মিয়া (২৬) নামের এক যুবককে সারারাত পাশবিক নির্যাতন ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভাঙারি মালামাল চুরি করেছে এমন অভিযোগ এনে তার উপর সারারাত নির্যাতন চালানো হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় মারা যান।
শনিবার রাতে নির্মম নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাওনা গ্রামের পিয়ার আলী ডিগ্রি কলেজের পাশে।
নিহত রানা পাশের মুলাইদ গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে। তিনি এমসি বাজার এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
এ ঘটনায় শনিবার মধ্যরাতে স্বজনরা নিহতের মরদেহ থানায় নিয়ে গিয়ে বিচার দাবি করেন।
তারা অভিযোগ করেন, রানাকে উদ্ধারের সময় সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছে নির্যাতনকারীরা। পুলিশ বলছে, ঘটনার পরেই পুলিশ আসামি ধরতে মাঠে নামে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
স্বজনরা জানান, শুক্রবার রাতে মাওনা কলেজ পাড়া এলাকায় ব্যবসায়ী শিপনের একটি ভাঙারি গোডাউনের পাশে রানা দাঁড়িয়ে ছিলেন।
এ সময় রাতে পাহারাদারেরা তাকে সন্দেহ করেন। এর আগে বেশ কয়েকবার ওই ভাঙারি গোডাউন থেকে বেশ কিছু ভাঙারি মালামাল চুরি হয়েছে। সে কারণে রাতে রানাকে সেখানে দেখে তাদের সন্দেহ বাড়ে। পরে পাহারাদারেরা ভাঙারি মালিক শিপনকে রাতেই গোডাউনে ডেকে আনেন। শিপন এসে রানাকে নানা প্রশ্নে জর্জরিত করেন। এ সময় সন্দেহ বাড়লে শিপনসহ বেশ কজন মিলে রানাকে বেধড়ক মারধর করে। পরে সারা রাত আটকে রেখে দফায় দফায় অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় রানার ওপর। এতে রানা অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
সকালে স্বজনরা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওখানে অবস্থার আরো অবনতি ঘটলে ঢাকা নিতে পরামর্শ দেন চিকিৎসক। পরে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা নেওয়ার পথেই রানা মারা যায়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।
নিহত রানার বাবা আমিরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে সকালে রানাকে আনতে গেলে শিপনসহ তার লোকজন চুরির মালামালের জরিমানা দাবি করে। কিন্তু রানাকে কেন মারধর করা হলো তা জানতে চাইলে আমাকে ও আমার স্ত্রীকেও মারধর করে তারা। পরে ছেলের জীবন রক্ষার আশায় সাদা কাগজে (স্ট্যাম্পে) স্বাক্ষর দিয়ে আমরা ছাড়া পায়। এতক্ষণে রানার শরীর বেশ খারাপ হয়ে পড়ে। সে কথা বলতে পারছিল না। রাতভর নির্যাতরে কারণে তার সারা শরীর লালচে হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, রানার শরীরজুড়েই আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে।
তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বহু চেষ্টা করেও আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারিনি। তিনি এমন মর্মান্তিক নির্যাতনের উপযুক্ত বিচার দাবি করেন।
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, শনিবার রাতে মরদেহ নিয়ে স্বজনরা থানায় আসে। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পালিয়ে গেছে। তাদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

