আদালতে স্ট্যাম্প জালিয়াতি ঠেকাতে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগ

আরো পড়ুন

সারাদেশের আদালতে মামলা দায়েরসহ বিভিন্ন আবেদনে জাল স্ট্যাম্প ও কোর্ট ফির অপব্যবহার ঠেকাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন। ইতোমধ্যে নকল স্ট্যাম্প ও কোর্ট ফি চিহ্নিতকরণের জন্য সারাদেশের আদালতগুলোতে প্রায় ১১০০ এর মতো আইসিডি ইউভি এলইডি ফ্ল্যাশ লাইট ডিভাইস পাঠানো হয়েছে। এই বিশেষ ধরনের ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে সহজেই নকল স্ট্যাম্প ও কোর্ট ফি চিহ্নিত করা যাবে।

এর আগে আগস্টের শেষ সপ্তাহে জাল স্ট্যাম্প ও কোর্ট ফি চিহ্নিত করতে আনা এসব বিশেষ ধরনের ফ্ল্যাশ লাইট ব্যবহারের বিষয়ে বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও দেয়া হয়।

সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোছাইন বলেন, নকল স্ট্যাম্প ও কোর্ট ফি চিহ্নিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী আইসিডি ইউভি এলইডি ফ্ল্যাশ লাইট নামক বিশেষ ডিভাইস ক্রয় করা হয়। এসব ডিভাইস ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এরপর প্রায় ১১০০ ডিভাইস সারাদেশের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এসব ডিভাইস ব্যবহারের ফলে জাল স্ট্যাম্প ও কোর্ট ফি ঠেকানো সম্ভব হবে। এতে করে বিচার বিভাগ থেকে সরকারের রাজস্ব বাড়বে।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই আদালতে মামলা দায়ের ও বিভিন্ন আবেদনের সঙ্গে নকল জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে আসছিল একটি অসাধু চক্র। বিষয়য়টি প্রায় তিন বছর আগে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনের নজরে আসে। পরে করোনাসহ নানা কারণে জাল স্ট্যাম্প ও কোর্ট ফি শনাক্তের বিষয়টি বিলম্বের মুখে পড়ে।

সবশেষ গত মে মাসে আইসিডি ইউভি এলইডি ফ্ল্যাশ লাইট নামক ডিভাইস নিয়ে আসা হয় এবং নকল স্ট্যাম্প ও কোর্ট ফি চিহ্নিত করার কাজ শুরু করে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন।

গত ১৯ মে প্রাথমিক পরীক্ষায় সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন দেখতে পান, ২১টি মোশন ফাইলের মধ্যে ২০টিতে ব্যবহৃত অর্থাৎ ৯৫ শতাংশ স্ট্যাম্প ও কোর্ট ফির সবই জাল। এরপর প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী আপিল বিভাগের অন্যান্য সকল বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির সঙ্গে তাৎক্ষণিক বৈঠক করেন।

বৈঠকের সুপারিশ অনুযায়ী পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি বিশেষজ্ঞ টিম ডেকে আদালত চত্বরে অভিযান চালায় সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন। ওই অভিযানে জাল কোর্ট ফিসহ দুজন ভেন্ডর (স্ট্যাম্প বিক্রেতাকারী এজেন্সির মালিক) ও একজন কোর্ট ফি সরবরাহকারীকে হাতে-নাতে গ্রেফতার করা হয়। এরপর সুপ্রিমকোর্টসহ সারাদেশের আদালতে জাল স্ট্যাম্পের ব্যবহার ঠেকাতে বিশেষ উদ্যোগ নেয় সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ