জঙ্গিবাদে জড়িয়ে কুমিল্লার ৭ তরুণ নিখোঁজ

আরো পড়ুন

১৬ দিনেও সন্ধান মেলেনি কুমিল্লা থেকে ‘নিখোঁজ’ সাত তরুণ শিক্ষার্থীর।

গতকাল বুধবার বিকেলে র‌্যাব ও পুলিশের দুজন কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য মতে, এইচএসসি থেকে স্নাতকে পড়া ওই তরুণদের হিজরতে উদ্বুদ্ধ করেছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম।

সন্তানদের ফিরে পেতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন তাঁরা। তাদের সন্ধানে পুলিশ ও র‌্যাবের একাধিক ইউনিট মাঠে কাজ করছে।

কুমিল্লার ওই সাত তরুণকে উদ্ধারে মাঠে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর একাধিক ইউনিট। এমন দুটি ইউনিটের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন, বিছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, উগ্রবাদে জড়িয়ে ওই সাত তরুণ কথিত হিজরতের জন্য নিজেরাই বাড়ি ছেড়েছে। তারা নিষিদ্ধ একটি জঙ্গি সংগঠনের ‘ফাঁদে’ পা দিয়ে কথিত হিজরতের উদ্দেশ্যে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গেছে।

কয়েক দিনের তদন্তে কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন, কুমিল্লার এই তরুণদের আগে সিলেট অঞ্চল থেকেও বেশ কিছু তরুণ ওই জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িয়ে বাড়ি ছেড়েছিল। কুমিল্লার এই তরুণরাও এর মধ্যে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনটির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে বলে তথ্য রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের হাতে।

নিখোঁজ ওই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছয়জন কুমিল্লার হলেও একজন এসেছিলেন ঢাকা থেকে। ঢাকা থেকে কুমিল্লায় আসা সরতাজ ইসলাম ওরফে নিলয় (২৫) রাজধানীর ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। কুমিল্লার রানীরবাজারের পাশের অশোকতলা এলাকায় তাঁর খালা ফৌজিয়া ইয়াসমিনের বাসা। সাত তরুণের একজন নিলয়ের খালাতো ভাই কুমিল্লা সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিহাল আবদুল্লাহ (১৭)। নিলয় ওই তরুণদের মধ্যে বয়সে সবচেয়ে বড়। এ জন্য অন্য তরুণদের পরিবার ধারণা করছে, নিলয়ই বাকি তরুণদের বিপথগামী করেছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বুধবার সন্ধ্যায় নিহাল আবদুল্লাহর বাবা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নিলয় আমার ভাইয়ার ছেলে। ২৩ আগস্ট সে আমাদের বাসায় আসবে বলে ঢাকার বাসা থেকে বের হয়। আমরা তাকে খুবই ভালো ছেলে বলেই জানি। নিহাল ও নিলয় ধর্মভীরু। ধর্মকর্ম করে, বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে তাবলিগের বয়ান শোনে। কিন্তু ঘটনার দিন নিলয় আমাদের বাসায় আসেনি। পরে এ ঘটনা জানতে পারি। ’

নিহাল ও নিলয়ের মতো বাকি পাঁচ তরুণও ধর্মভীরু। পরিবারকে তারা মসজিদে গিয়ে তাবলিগের বয়ান শোনার কথা বলত।

২৩ আগস্ট কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়া বাকি পাঁচ তরুণ হলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইমরান বিন রহমান ওরফে শিথিল (১৭), একই কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী আস সামি (১৮), কুমিল্লা সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম (১৮), ভিক্টোরিয়া কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহম্মেদ ওরফে রিফাত (১৯) ও একই কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের আমিনুল ইসলাম ওরফে আল-আমিন (২৩)।

গতকাল বিকেলে এ ব্যাপারে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘এই সাত শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় পাঁচটি এবং ঢাকায় একটি জিডি হয়েছে। এরই মধ্যে বিষয়টি জাতীয় ইস্যু (জঙ্গিবাদ) হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ তরুণদের উদ্ধার এবং ঘটনার তদন্তে মাঠে কাজ করছে ঢাকা ও কুমিল্লার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর একাধিক টিম। আশা করছি, দ্রুত আমরা সব কিছু জানাতে পারব। ’

র‌্যাব-১১ সিপিসি ২, কুমিল্লা কম্পানি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন বলেন, ‘আমরা কয়েক দিন ধরে বিষয়টি নিয়ে খুব তৎপর। আমাদের বেশ কয়েকটি টিম মাঠে কাজ করছে।’

জাগো/আরএইচএম

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ