সারাদেশে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে ওএমএসের চাল বিক্রি শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ সার্কিট হাউসে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এ কথা জানান।
সারাদেশে ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং টিসিবির কার্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে চাল ও আটা বিতরণ কর্মসূচি নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, সারাদেশে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৫০ লাখ পরিবারকে ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হবে। এই কার্যক্রম ৩ মাস চলবে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ক্ষেত্রে ডিভাইস তৈরি করে স্মার্ট কার্ড দেয়া হবে। এরই মধ্যে ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। স্মার্ট কার্ড দেয়া হলে কেউ এটি অবৈধভাবে ব্যবহার করতে পারবে না।
সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, লাইনে দাঁড়িয়ে কেউ যেন একাধিকবার চাল নিতে না পারে, সেজন্য টিসিবির কার্ডধারীকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। মাসে ৫ কেজি করে দুই বার দেয়া হবে। কার্ডধারী ছাড়া যারা চাল নিতে যাবে, তাদেরকে ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি নিয়ে যেতে হবে। সেটার ওপর তারিখ ও সিল দেয়া থাকবে, কেউ যেন বার বার চাল নিয়ে বাজারে বিক্রি করতে না পারে।
তিনি বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে সরকারিভাবে চাল সংগ্রহ হয়েছে শতভাগ। দেশে চালের কোনো অভাব নেই। সরকারি গুদামে ১৯ লাখ ৫০ হাজার ৫৩১ টন খাদ্যশস্য মজুত আছে। চালের বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে। ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু হলে চালের দাম আরো কমবে। সামনে কৃষকরা যেন ধানের ন্যায্যমূল্য পায়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।
বিশ্বে তেলের দাম বেড়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মূলত আমদানি নির্ভর দেশ। এইটা অস্বীকার করার কিছু নেই। বিশ্বে সব ধরনের দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। জাহাজের ভাড়াও ৫ থেকে ৭ গুণ বেড়েছে। এসব সমন্বয় করতে গিয়ে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তেলের দাম যে পরিমাণ বেড়েছে, দ্রব্যমূল্য তার চেয়ে দ্বিগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এটা আমাদের কষ্টের কথা, ভোক্তাদের কষ্টের কথা। যাদের দেশের প্রতি ভালোবাসা নেই এবং অসৎ ব্যবসায়ী তারাই এ কাজটা করছে। এইটা নিয়ন্ত্রণে আমরা বাজার মনিটর করছি।
ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারদের কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না বলে হুশিঁয়ারি দেন খাদ্যমন্ত্রী।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো ডিলার ওএসএম বা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল পাচারে ধরা পড়লে বা কোনো অনিয়ম করেলে সে যেই হোক ছাড় পাবে না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন, খাদ্যমন্ত্রীর একান্ত সচিব শহিদুজ্জামান, উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আলমগীর।

