প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা ধার্য করায় খুশি চা শ্রমিকরা। তারা প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
সরকারের সর্বোচ্চ মহলের সিদ্ধান্তের পর দীর্ঘ ১৯ দিনের কর্মবিরতি ইস্তফা দিয়ে রবিবার (২৮ আগস্ট) থেকে পুরোদমে বাগানে কাজে যোগ দেবেন শ্রমিকরা। এতে করে চা-শিল্পে দীর্ঘ ১৯ দিনের অচলাবস্থার নিরসন হতে যাচ্ছে।
চা শ্রমিক নেতারা বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের পর শ্রমিক নেতারা চা বাগানের পঞ্চায়েত নিয়ে বসেন। পঞ্চায়েত কমিটির প্রত্যেকে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। এ সিদ্ধান্তে তারা অনেক খুশি।
নতুন মজুরি নির্ধারণের বিষয়ে চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রের প্রধান। তার সিদ্ধান্তকে আমরা সম্মান করি। আর চা-শ্রমিকরা আন্দোলনের সময়ও বলেছিলেন- প্রধানমন্ত্রী বললেই তারা কাজে যোগ দেবেন। তার যেকোনো সিদ্ধান্ত শ্রমিকরা মেনে নেবেন। তাই রবিবার থেকেই তারা কাজে যোগ দেবেন।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা ঠিক করে দেওয়ার পর আমরা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটি নিয়ে বসেছি। এতে কারো কোনো আপত্তি নেই। প্রধানমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তে চা শ্রমিকরা সবাই খুশি। সবার একটাই প্রত্যাশা ছিল প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে কিছু শোনার। তিনি মজুরি যা নির্ধারণ করে দেবেন শ্রমিকরা তা মেনে নেবে। আমরা মেনেও নিয়েছি। প্রত্যেক ভ্যালিতে মিটিং হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত সানন্দে মেনে নেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়ে এসেছি। আমরা দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় যা করতে পারতাম না তা করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ধর্মঘট প্রত্যাহার করে চা-শ্রমিকরা কাজে যোগ দেওয়ার জন্য আমরা ভ্যালির সব নেতাদের বলেছি।’
চা শ্রমিক অধিকার বাস্তবায়ন আন্দোলনের আহ্বায়ক ও চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সদস্য রিতেশ মোদি বলেন, ‘আমার প্রত্যাশা ছিল প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিকদের মজুরি আড়াইশ’ না হোক, ২শ’টাকা করে দেবেন। তবে এটাও ঠিক চা শিল্প ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী ১৭০ টাকা মজুরি ধার্য করে দিয়েছেন। তার সিদ্ধান্তকে আমরা মেনে নিচ্ছি।’ এরআগে শনিবার বিকেল সোয়া ৪ টার দিকে গণভবনে দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরি বাড়ানোর দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে চা-বাগান মালিকদের বৈঠক শুরু হয়। এতে দেশের বৃহৎ ১৩টি চা-বাগান মালিক উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এদিন বিকেলে বৈঠক খবর জানতে চা শ্রমিকের চোখ গণমাধ্যমের দিকে ছিল। তারা বৃষ্টিতে ভিজেও প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলেন। সন্ধ্যার পর প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের কথা শ্রমিক নেতাদের মাধ্যমে বাগানে বাগানে পৌঁছালে তারা খুশিতে ফেটে পড়েন। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বাগানে আনন্দ মিছিলও বের করা হয়।
জাগো/আরএইচএম

