বৈশ্বিক আর্থিক অস্থিরতায় অস্বাভাবিকভাবে দাম বেড়েছে নির্মাণসামগ্রীর। ফলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর (ইইডি) এর অধীনে ৫০০ এর বেশি স্কুল, কলেজ ও মাদনাসার নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে আছে।
যেসব ভবনে অন্তত ৮০ শতাংশ কাজ হয়েছে সেসবে কোনোমতে কাজ চালিয়ে যাওয়া যাচ্ছে। যেসবে কাজ প্রাথমিক বা মধ্যপর্যায়ে রয়েছে সে সব কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রেট বাড়ানোর জন্য ঠিকাদাররা অধিদফতরে ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দৌড়াদৌড়ি করেও ফল পাচ্ছেন না।
ইইডি’র প্রধান প্রকৌশলী শাহ্ নইমুল কাদের বলেন, এটা এককভাবে আমাদের দফতরের সমস্যা নয়। সরকারের যেসব দফতরে নির্মাণকাজ আছে তাদের সবার একই সমস্যা। আমাদের কাছে সমস্যার কথা পিডিরা বলছেন, ঠিকাদাররা বলছেন। মন্ত্রণালয়ও এ সমস্যার কথা জানে। এর সমাধান করতে হলে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
শাহ্ নইমুল কাদের বলেন, বড় ঠিকাদাররা, তাদের আর্থিক ক্ষতি হলেও, কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ছোট ঠিকাদাররা সমস্যায় পড়েছেন। আমরা সবাইকে অনুপ্রেরণা দিয়ে কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। যাদের সাড়া একেবারেই পাওয়া যায় না, তাদের বিরুদ্ধে সরকারি ক্রয়-নীতিমালা (পিপিআর) অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সূত্র জানায়, নির্মাণকাজ চলছে এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দেড় হাজারের বেশি। ৫০০ এর বেশি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। এসব কাজের বেশিরভাগের আদেশ ২০১৮ সালের রেট অনুযায়ী দেয়া হয়েছে। ২০১৪ সালের রেট অনুযায়ী কার্যাদেশ নেওয়া কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজও অসমাপ্ত রয়েছে। যাদের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে, তারা (আর্থিক ক্ষতিতে পড়লেও) দ্রুত কাজ শেষ করে বিল নিতে চাচ্ছেন। বড় ঠিকাদাররাও কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছেন। আগে যেখানে একটা প্রকল্পে ৫০ জন শ্রমিক কাজ করত এখন সে প্রকল্পে শ্রমিক ১০ জনে নামিয়ে আনা হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইইডির অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প অফিস ভবনের নির্মাণকাজও কোনোমতে চলছে। ছোট বা মধ্যম পর্যায়ের ঠিকাদাররা কাজ বন্ধ করে বসে আছেন।
ঠিকাদাররা জানান, ২০১৮ সালের রেট অনুযায়ী, প্রতি টন রডের দাম ধরা হয়েছিল ৫৭ হাজার টাকা, এখন সে রডের দাম টনে ৯২ হাজার টাকা। প্রতি ব্যাগ সিমেন্টের দাম ধরা হয়েছিল ৩৯০ টাকা, এখন দাম ৪৭৫ টাকা। প্রতি ঘনফুট পাথরের দাম ধরা হয়েছিল ১৭০ টাকা, এখন দাম ২১০ টাকা। প্রতি হাজার ইটের দাম ধরা হয়েছিল ৯ হাজার টাকা, এখন তা কিনতে হচ্ছে ১০ হাজার টাকায়। মোটা বালু প্রতি ঘনফুটের দাম ধরা হয়েছিল ৪০ টাকা, এখন এর দাম ৬০ টাকা। ২০১৮ সালে বিটুমিন প্রতি টনের দাম ধরা হয়েছিল ৪৮ হাজার টাকা, এখন দাম ৬৬ হাজার টাকা। ১০০ মিটার ইলেকট্রিক কেবলের দাম ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৫০০ টাকা, এখন দাম ১ হাজার ৯১১ টাকা। ২০১৪ সালের রেটের সঙ্গে বর্তমান বাজারদরের তুলনা করলে পার্থক্য আরো বাড়বে।
সম্প্রতি ঠিকাদাররা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের মাধ্যমে তাদের সমস্যা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন। তাতে বলা হয়েছে, নির্মাণসামগ্রীর বাজার অস্থিতিশীল, ক্রমবর্ধমান হারে দাম বেড়েছে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের রেট বর্তমান বাজারদরের চেয়ে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কম। ফলে চুক্তিমূল্য অনুযায়ী কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ঠিকাদাররা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কাজের মান ঠিক রাখা কষ্টকর। অতিরিক্ত আয়কর ও ভ্যাট তাদের আর্থিক ক্ষতি আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে আয়কর ও ভ্যাট কমানোর পাশাপাশি বাজারদর অনুযায়ী আগের রেট সিডিউল সমন্বয় করার দাবি জানাচ্ছি।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর ঢাকা মেট্রো ঠিকাদার সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, নির্মাণসামগ্রীর অস্বাভাবিক হারে দাম বাড়ায় আমরা আর্থিক ক্ষতির মুখে আছি। আমাদের সাবসিডি দেয়া না হলে বা রেট অ্যাডজাস্ট করা না হলে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব। আমাদের বিশ্বাস, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করে সমাধান বের করবে।

