বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি মোকাবেলায় আইএমএফ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ঋণ নেয়ার উদ্যোগ স্বাভাবিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে প্রযোজ্য সুদসহ এ ধরনের ঋণ পরিশোধের বোঝা পুরোটাই জনগনকে বইতে হবে। সেকারণে জনগনের ওপর ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে বিকল্প উপায় অবলম্বনের পথ বিবেচনা করা উচিত।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানি এসব কথা বলেছেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, আর্থিক সংকট, বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার ধারাবাহিক ঘাটতি মোকাবেলায় বৈদেশিক ঋণ সহায়তাসহ অন্যান্য চলমান উদ্যোগগুলো জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে গ্রহণ করা হয়েছে কি না! অর্থাৎ জনগনের ওপর ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে বিকল্প উপায় অবলম্বনের পথ বিবেচনা করা রয়েছে কি না!
বিজ্ঞপ্তিতে কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে দেশে-বিদেশে সব পধরনের লেনদেনের স্বয়ংক্রিয় তথ্য দেয়া-নেয়া সহায়ক ‘কমন রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড’ (সিআরএস) অনতিবিলম্বে অবলম্বন করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে টিআইবি।
সংস্থাটি বলছে, প্রযোজ্য সুদসহ ঋণ পরিশোধের বোঝা পুরোটাই জনগনের ওপর পড়বে। এ অবস্থায় প্রায় বিনা খরচে কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধের মাধ্যমে প্রস্তাবিত বৈদেশিক ঋণের কয়েকগুণ বেশি অর্থ বাৎসরিক ও টেকসইভাবে উপার্জন করার পথ সরকারের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে বলে মনে করিয়ে দিচ্ছে টিআইবি।
গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির তথ্যানুযায়ী, ২০০৮-২০১৫ মেয়াদে চালান জালিয়াতির মাধ্যমে পাচার হওয়ার পরিমাণ বছরে ৮২০ কোটি ডলার, যা হালনাগাদ তথ্যপ্রাপ্তি সাপেক্ষে ইতোমধ্যে কমপক্ষে ১ হাজার ২ কোটি ডলারের বেশি হবে বলে উল্লেখ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।
তিনি বলেন, ধারাবাহিক অর্থ পাচার বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ যে আকাশছোঁয়া, এ বিষয়ে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই। একই ভাবে কোনো সন্দেহ নেই যে, দেশের অর্থপাচারের সিংহভাগ আমদানি ও রফতানি বাণিজ্যে চালান জালিয়াতির মাধ্যমে সংগঠিত হয়। যার ফলে একদিকে যেমন ব্যাপক কর ফাঁকি দেয়া হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে। সরকারকে মনে রাখতে হবে যে, চলমান সংকটের মতো পরিস্থিতিতে কর ফাঁকি ও অর্থপাচার স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেড়ে যায় বলে মনে করেন তিনি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান আরো বলেন, বড় ধরনের অর্থপাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য কার্যকর সিআরএস অবলম্বন করা দেশের জন্য অপরিহার্য আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। যার সুফল প্রস্তাবিত আইএমএফের মত সংস্থার এককালীন আন্তর্জাতিক ঋণের তুলনায় বহুগুণে বেশি হারে ও বাৎসরিকভিত্তিতে সুলভ ও টেকসই ভাবে বৈদেশিক মুদ্রা তথা জাতীয় আয় বাড়াতে সহায়ক হবে।

