বাস ভাড়ায় নগরবাসী কতটা ঠকছে, সেটি এবার স্বচক্ষে দেখলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ। যতটা ভাড়া হওয়া উচিত, তিনি দিয়েছেন তার দেড়গুণেরও বেশি।
এরপর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন অন্যদের সঙ্গে। ফোনে কথা বলেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে। বলেছেন, মানুষের কষ্ট হচ্ছে, সরকার যেন ব্যবস্থা নেয়।
বছরের পর বছর ধরে নগরবাসী তারই মতো ঠকছেন, কখনও কখনও ঠকার হার তার চেয়ে বেশি। বাস ভাড়া যত বাড়ে, নগরবাসীর নিত্যদিনের ক্ষতি তত বাড়ে।
ডিজেলের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানোর পর বিআরটিএ হিসাব করে দিয়েছে ভাড়া হবে কিলোমিটারে আড়াই টাকা। সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা হিসেবে, চার কিলোমিটার যাওয়া যাবে এই টাকায়।
জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় গণপরিবহনে ভাড়ার অবস্থা ও জনভোগান্তি দেখতে ভাড়া বাড়ানোর প্রথম দিন রবিবার (৭ আগস্ট) লোকাল বাসে উঠেছিলেন কাজী জাফরুল্লাহ।
বাসে উঠে অনেকটা কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েন ক্ষমতাসীন দলের এই প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ। দেখলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে কীভাবে বাড়তি ভাড়া নেয়া হচ্ছে। এমনকি নিজেও গুনলেন বাড়তি ভাড়া। শুধু তাই নয়, বাড়তি ভাড়া নেয়ার প্রতিবাদ করায় বাস থেকে নেমে যেতে বলা হয় তাকে। অবশ্য মাস্ক পরে ছিলেন বলে কেউ তাকে চিনতে পারেননি। তিনি নিজেও কাউকে পরিচয় দেননি।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা কাজী জাফরুল্লাহ নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা সহকর্মীদের সঙ্গে শেয়ার করার পর বিষয়টি চলে আসে গণমাধ্যমে। তিনি গণমাধ্যমের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
জানা গেছে, রবিবার বাসে চড়ে মিরপুর থেকে কাকলীতে যান কাজী জাফরুল্লাহ। সাধারণ মানুষের ওপর জ্বালানির তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বাসভাড়া বৃদ্ধির প্রভাব দেখতে বের হয়েছিলেন তিনি। ওইদিন দুপুরে পল্লবীর পূরবী সিনেমা হলের সামনে থেকে তিনি বাসে ওঠেন। কালশী হয়ে সৈনিকগেটের সামনে দিয়ে নৌবাহিনীর সদরদফতর পার হয়ে বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকায় নামেন।
বাস চলতে শুরু করার কিছুক্ষণ পরই বাসের কন্ডাক্টর তার কাছে ভাড়া চান। কাকলী পর্যন্ত যেতে তার কাছে ৩০ টাকা ভাড়া চাওয়া হয়, যা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি। তখন কাজী জাফরুল্লাহ কন্ডাক্টরের কাছে জানতে চান, কেন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা নেয়া হচ্ছে। এই পথের ভাড়া তো ২০ টাকা।
এসময় নতুন ভাড়ার তালিকার কথা তুলে ধরে কাজী জাফরুল্লাহ কন্ডাক্টরকে বলেন, নতুন নিয়মে ২২ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। সেই অনুযায়ী ভাড়া হবে ২৪ টাকা। সেখানে আপনি ২৫ টাকা নিতে পারেন। কিন্তু, ৩০ টাকা নয়। এসব যুক্তি যেন মানার সময় নেই কন্ডাক্টরের।
কন্ডাক্টর তাকে বলেন, আমাকে এসব যুক্তি-টুক্তি দেখাবেন না। ভাড়া ৩০ টাকা। ৩০ টাকাই দিতে হবে, না হলে এখানেই নেমে যান।
একেকজন একেকভাবে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে, তাই তিনি নিজে বাস্তব পরিস্থিতি জানতে বাসে উঠেছেন বলে জানান।
কাজী জাফরুল্লাহ বলেন, সরকার হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় বাস্তবতা দেখতেই বাসে উঠেছিলাম। আমার মতে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং পরবর্তীতে বাসের ভাড়া বৃদ্ধি মানুষকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে।
দলীয় ফোরামে কোনো আলোচনা ছাড়াই (জ্বালানির দাম বাড়ানো) এ ধরনের উদ্যোগ বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয় নেতাদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

