সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ বলে মনে করছেন বিএনপির নেতারা। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের সরকার নয়। এ কারণে জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তাই জনগণের কথা চিন্তা না করে একলাফে ৫০ শতাংশের বেশি মূল্যবৃদ্ধি করেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ বলেন, বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি। এরমধ্যে এখন জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির হচ্ছে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। এরফলে আরো একদফায় সব ধরনের জিনিস পত্রের দাম বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরো বলেন, আসলে জ্বালানি তেলের ওপর সরকার সে লসের কথা বলছে, সেটা একটা মিথ্যা তথ্য। মূলত সরকার রির্জাভের অভাবে আমদানি করতে পারছে না। যার ফলে জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দিতে হয়েছে সরকারকে। এখন এবার একই কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। যাতে মানুষ কষ্ট করে হলেও যেন কম জ্বলানি ব্যবহার করে।
আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলে উল্লেখ করে মোশাররফ বলেন, এই কারণে জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। যখন যা খুশি তাই করছে। এতোদিন যে দেশে আওয়ামী স্টাইলে অর্থনীতি চালিয়ে গেছে, তার ফল পাচ্ছে দেশের জনগণ।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, এক লাফে এতো টাকা দাম বৃদ্ধিতে প্রমাণ হয় দেশের অর্থনীতি এবং সরকারের কোষাগারের অবস্থা খুবই খারাপ। কারণ আমরা দেখেছি ২-৪ টাকা বা ৫-১০ টাকা বৃদ্ধি পেতে। কিন্তু একবারে ৪৬ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ার ইতিহাস নেই।
তিনি আরো বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে কখনও জ্বালানি দেশের দাম এতো বৃদ্ধি পায়নি। বাংলাদেশ এখানে বিরল। আসলে জনগণের প্রতি এ সরকারের যে দায়বদ্ধতা নেই, তারা যে জনগণের মতামতকে গুরত্ব দেয় না এটাই তার প্রমাণ। এ সরকার মনে করে, তারা যা খুশি করতে পারে, যত খুশি তত দাম বাড়াতে পারে, জনগণ তাদের কিছুই করতে পারবে না। তারা প্রশাসন দিয়ে সব কিছু দমন করে রেখেছে। জনবিচ্ছিন্ন সরকারই একমাত্র এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে মানুষের জীবন-যাত্রার ব্যয় আরো বৃদ্ধি পাবে উল্লেখ বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, এতে করে দেশে দারিদ্য মানুষের হার আরও বাড়বে।
বিএনপি জনগণের দল হিসেবে এই জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে অবশ্যই কর্মসূচি পালন করবে জানিয়ে মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, আমি মনে করে শুধু বিএনপি নয়, সব দলকে এই জনবিচ্ছিন্ন সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে হবে। জনগণের দাবি নিয়ে রাস্তায় নামতে হবে। এই ফ্যাসিবাদী সরকারকে হটিয়ে জনগণের সরকার গঠন করতে হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একটি সূত্র জানান, জ্বলানি ও বিদ্যুৎ খাতের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে সারাদেশে বিএনপির কর্মসূচি পালন করেছে কয়েকদিন আগে। আর এ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে ভোলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে বিএনপির দুই নেতার মৃত্যু হয়েছে। সেই হত্যার প্রতিবাদে ৮ আগস্ট পর্যন্ত বিএনপির কর্মসূচি চলবে। এরপরই আবার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তার আগে সংবাদ সম্মেলনে করে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিতে পারে বিএনপি।

