চৌগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১০০ শয্যা উন্নতীকরণের কাজে ব্যাপক অনিয়ম

আরো পড়ুন

যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যা উন্নীতকরণের কাজে ব্যাপক অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সকল অভিযোগের সত্যতার পেয়েছে তদন্ত কমিটি। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার এ সকল বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে সতর্ক করলেও লাগাতার অনিয়ম করেই কাজ করে যাচ্ছেন ঠিকাদাররা।

সরজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, নিম্নমানের ইট দিয়ে গাথুনী, গাথুনীকৃত ওয়ালে পানি দিয়ে কিউরিং না করা, ঢালাইয়ের কাজ সমাপ্তের পর হানিকমগুলো বোর না মারায় সেসব স্থানের রড, কাঠ ইত্যাদি বের হয়ে রয়েছে। এছাড়া নিম্নমানের বেকা-ত্যাড়া (বেসাইজ) ইটদিয়ে অপরিচ্ছন্ন গাথুনীসহ নানা অনিয়ম করা হয়েছে নির্মানধীন ভবনটিতে। এম সি এল- এইচ ই কনসোর্টিয়াম টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ -৮১২০ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২১ কোটি ৫৭ লক্ষ ২৯ হাজার ৮০৪ দশমিক ৮৮২ টাকা ব্যায়ে এ ভবনের নির্মান কাজ করছেন।

জানা যায়, গত ৩০ জুন উপজেলা পরিষদের মাসিক আইনশৃংখলা কমিটির সভায় হাসপাতালের উন্নয়ন কাজে অনিয়মের বিষয়টি উপস্থাপন করেন সিংহঝুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ মল্লিক।

পরে অনিয়মের বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীর নেতৃত্বে সিংহঝুলী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ মল্লিক এবং ধুলিয়ানী ইউপি চেয়ারম্যান এসএম মোমিনুর রহমানকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে গিয়ে অনিয়মের সত্যতা পান। যা গত ৩১ জুলাই উপজেলা আইনশৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় তদন্ত কমিটির সদস্যরা উপস্থাপন করেন।

অভিযোগ উঠেছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের অসাধু প্রকৌশলীদের নিশ্চুপ থাকার সুযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এভাবে অনিয়ম করে যাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে থাকা অবস্থায় স্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর যশোরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী ইমরান এবিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী ইমরান জানান, পানি দিয়ে কিউরিং এবং হানিকমে বোর না মারার বিষয়টি লজ্জাজনক। এছাড়া দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারনে দেড় নম্বর ইট দিয়ে কাজ করছেন বলেও তিনি স্বীকার করেন। পরবর্তীতে ভালো ইট দিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাঃ লুৎফুন্নাহার বলেন, “আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার ভালো উপকরণ দিয়ে কাজ করার জন্য বললেও তারা বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না। বিষয়টি আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা বলেন, “উপজেলা পরিষদের মাসিক আইনশৃংখলা কমিটির সভায় সিংহঝুলী ইউপি চেয়ারম্যান অনিয়মের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। পরে এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি করা হয়। তদন্ত কমিটির সদস্যরা নিম্নমানের মালামাল দিয়ে কাজ করার সত্যতাও পেয়েছেন। ঠিকাদারকে ভালো মালামাল দিয়ে কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। এবিষয়ে উপজেলা আনইশৃঙ্খলা কমিটির সভার রেজুলেশন উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হবে বলেও জানাম তিনি।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ