যশোরের মণিরামপুরে মাদরাসা শিক্ষার্থীর গোছলের ভিডিও ধারণকারী শামীম হোসেন (২৪) নামে থানায় অভিযোগ করে বিচার না পেয়ে ক্ষোভে-দুঃখে ওই মাদরাসা শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। অভিযোগের ৪ দিন পর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবু বক্কার সিদ্দিকী দুই পক্ষকে থানায় ডেকে মীমাংসার চেষ্টাকালে পুলিশের উপস্থিতিতে ভিকটিম পক্ষকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে আসামিপক্ষের হুমকিতে নিরাপত্তায়হীনতায় ভিকটিম পরিবার।
উপজেলার বাকোশপোল গ্রামের শামীম হোসেন ও ভিকটিমের বাড়ি পাশাপাশি হওয়ার সুবাদে প্রায়ই ভিকটিমের বাড়িতে যাতায়াত করতো। শিক্ষার্থীর মা বাড়িতে আসতে নিষেধ করায় শামীম ক্ষিপ্ত হয়।
এদিকে গত বুধবার মাদরাসা থেকে ফিরে বাড়ির উঠানে টিউবওয়েলে গোছলের সময় শামীম গোছলের দৃশ্য মোবইলে ধারণ করে। দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে ওই ছাত্রীর মা এগিয়ে আসে। পরে শামীমের ভাইজি পিংকির কাছ থেকে জানতে পারেন সেখানে শামীম ছিল। তিনি তাৎক্ষণিক স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনকে ডেকে ঘটনা জানালে তিনি তাকে আইনগত পদক্ষেপের জন্য থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি ওই দিনই থানায় গিয়ে শামীম হোসেন ও তার বড় ভাই শাহ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। ওই রাতে থানার এসআই আবু বক্কার সিদ্দিকী শামীমের বাড়িতে এসে থানায় যাওয়ার কথা বলে চলে যান। পরে মোবাইল ফোনে তাদেরকে পরদিন বৃহস্পতিবার থানায় আসতে বলেন। তারা থানায় গেলে আসামিপক্ষ হাজির না হওয়ায় পরদিন শুক্রবার সকালে ফের থানায় আসার কথা বলে তাদেরকে চলে যেতে বলেন এসআই আবু বক্কার। শুক্রবার থানায় গেলেও আসামিপক্ষ হাজির না হওয়ায় আবারো শনিবার থানায় আসার কথা বলেন। শনিবার থানায় গেলে অভিযুক্ত শামীম গ্রামের বাইরের লোকজন নিয়ে থানায় হাজির হন। এক পর্যায় এসআই বক্কারের উপস্থিতিতে ভিকটিমের মারধর করে থানা থেকে বের করে দেয় শামীমের সাথে আসা লোকজন।
বাড়িতে এসে ক্ষোভে-দুঃখে মেয়ে (ভিকটিম) আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। তারা এখন বিবাদিপক্ষের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ওই শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনা বিচারসহ নিজের নিরাপত্তা দাবি করেছে।
জানতে চাইলে এসআই আবু বক্কার বলেন, দ্ইু পক্ষকে থানায় ডেকে মীমাংসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুই পক্ষের গোলযোগের কারণে ভেস্তে যায়।
থানার ওসি (তদন্ত) গাজী মাহবুবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি তিনি নিজে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।

