শেষের পথে খুলনা-মোংলা রেল প্রকল্পের কাজ। রূপসা নদীর ওপর ৫ দশমিক ১৩ কিলোমিটার রেল সেতুর পুরোটাই এখন দৃশ্যমান। বর্তমানে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৯৩ শতাংশ। চলতি ডিসেম্বরে নির্ধারিত মেয়াদেই কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর রূপসা রেল সেতুর পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন ২৫ জুন সপ্তম ও শেষ স্প্যানটি বসে রূপসা রেল সেতুতে। রেল সেতুর ভায়াডাক্টের ৮৫৬টি পাইলের সব কটিই বসানো হয়েছে। মূল সেতুর পাইল ৭২টি, পাইল ক্যাপ ৮টি, বিয়ারিং ৩২টি সম্পন্ন হয়েছে। সেতুটির ওপরিভাগ তৈরি করা হয়েছে স্টিলের গার্ডার এবং আরসিসি ডেকের সমন্বয়ে। রূপসা নদীর ওপর নির্মিত পুরো রেল সেতু। বসে গেছে ৭টি স্প্যানের সব কটি। ৫ দশমিকে ১৩ কিলোমিটার রেল সেতুর পুরোটাই এখন দৃশ্যমান।
ভারত সরকারের ঋণসহায়তা চুক্তির আওতায় খুলনা-মোংলা রেল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান লার্সেন অ্যান্ড টার্বো। রেল পথ প্রকল্পটির রূপসা রেল সেতু বাদেও খুলনা থেকে মোংলা পর্যন্ত রেল লাইন এবং টেলিকমিউনিকেশন ও সিগনালিংয়ের কাজ চলছে। ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে ৬৫ কিলোমিটার রেল পথ বসেছে। এ ছাড়া ৩১টি ছোট ব্রিজ ও ১১০টি কালভার্ট নির্মাণ এবং খুলনার ফুলতলা থেকে মোংলা পর্যন্ত ৮টি স্টেশন নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।
এ প্রকল্পের রেললাইন তৈরির জন্য ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভারতের ইরকন সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। আর সেতু তৈরির জন্য ওই বছরের ২৪ আগস্ট ভারতের লারসেন অ্যান্ড টাব্র নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়। এর আগে ২০১২ সালের নভেম্বর প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় ভারতের সিইজি নিপ্পন কোয়ি জেভি প্রতিষ্ঠান।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বলেন, চলমান এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে মোংলা বন্দরের গতি আরও সঞ্চার হবে। মোংলা বন্দরের সঙ্গে যুক্ত হবে উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় ও বাংলাবান্ধা হয়ে ভারতে শিলিগুড়ির রেল যোগাযোগ। ফলে কম খরচে ভারত, নেপাল ও ভুটানের মালামাল পরিবহণ সহজ হবে। এতে করে আমদানি- রফতানি বৃদ্ধির সঙ্গে কন্টেইনার সার্ভিসও বাড়বে।
মোংলা বন্দর বার্থ অ্যান্ড শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ জাহিদ হোসেন বলেন, এ রেল পথ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

