ব্যালটে নির্বাচন চায় খেলাফত মজলিস

আরো পড়ুন

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করার জন্য ব্যলটের মাধ্যমে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। একইসঙ্গে, দলটির মহাসচিবের মুক্তি দাবি জানিয়ে বলা হয়, মাওলানা মামুনুল হকসহ অনেক নেতৃবৃন্দ দীর্ঘদিন কারাগারে বন্দি রয়েছে। তাই অতিদ্রুত তাদের মুক্তির জন্য কমিশনের সহযোগিতা কামনা করছে।

মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ইসির সংলাপে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এসব দাবির কথা জানান।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে সংলাপে ইসি কমিশনার আলমগীর, রাশেদা সুলতান, আনিছুর রহমান ও বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব খান ও ইসি সচিব হুমায়ন কবির খোন্দকার উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচির মাওলানা জালালুদ্দীন আহমেদ, মাওলানা আজিজুল রহমান হেলাল, মাওলানা ফয়েজ আহমেদ, মাওলানা আবুল হাসনাত জালারীসহ ১০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। দলটির পক্ষ থেকে সংলাপে লিখিত বক্তব্যে ১৫টি প্রস্তাব তুলে ধরেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমেদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, জাতীয় নির্বাচনসহ সকল নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন একটি জাতীয় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। যেহেতু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দল এবং প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মানতে বাধ্য সেহেতু কমিশনের নিরপেক্ষতা আমানতদারী প্রশ্নাতীত হওয়া অপরিহার্য। কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো প্রকার সংশয় ও সন্দেহ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কমিশনকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার দিন থেকে স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের বদলির ক্ষমতা ইসির হাতে রাখা এবং নির্বাচনি এলাকায় সাত দিন আগে থেকে নির্বাচনের ৭২ ঘণ্টা পর পর্যন্ত সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, নির্বাচনে যেভাবে অর্থের প্রভাব খাটিয়ে ভোটারদের বিপথগামী ও চরিত্র নষ্ট করা হয়ে থাকে তাতে কোনো সৎ ও যোগ্য লোকের নির্বাচন করা খুবই কঠিন। আর এ অপতৎপরতা বন্ধ করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। অতীতে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় উল্লেখযোগ্য কোনো সফলতা অর্জিত হয়নি। নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব চলছেই। এ ব্যাপারে আমাদের সুস্পষ্ট প্রস্তাব হলো, নির্বাচন কমিশনের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে সব প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণার ব্যবস্থা করা। একই পোস্টারে সকল প্রার্থীর পরিচয় ও প্রতীক এবং একই মঞ্চে সকল প্রার্থীর বক্তৃতার ব্যবস্থা করা। জামানতের সঙ্গে এসব খরচের টাকা প্রার্থী দল থেকে নেয়া যেতে পারে।

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত মামলা সর্বোচ্চ ছয় মাসের মধ্যে কমিশনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। ধর্ম ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী কোনো দলকে নিবন্ধন দেওয়া যাবে না। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য ধর্মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিংবা বিরোধপূর্ণ কোনো আইন ও শর্ত আরোপ না করা। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পূর্বে সংসদ ভেঙ্গে দেয়া। তিনি বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতারকৃত সকল কারাবন্দীকে মুক্তি দেওয়া। নতুন কোনো রাজনৈতিক মামলা না দেওয়া। কোনো প্রার্থী ও তার কর্মীদের অযথা হয়রানি না করা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ব্যালট পেপারের মাধ্যমে করা।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ