যশোরের জেলার নতুন এমপিওভুক্ত ১০টি মাদরাসাকে এমপিও কোড দিয়েছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। এ মাদরাসাগুলোর প্রধানদের মেমিস সফটওয়্যারের রেজিস্ট্রেশন ও ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পসহ অঙ্গীকারনামা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতনের জন্য মেমিস সফট্ওয়ারে অনলাইনে আবেদন করতে বলেছে অধিদফতর। অধিদফতর থেকে এ নির্দেশনা নতুন এমপিওভুক্ত ও স্তর পরিবর্তনকৃত ১০টি মাদরাসার অধ্যক্ষ ও সুপারদের পাঠানো হয়েছে।
১. বাঘারপাড়ার জামিদিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদরাসা, ২. চৌগাছার পাতিবিলা নিয়ামতপুর তাহাজিবুল উম্মাহ দাখিল মাদরাসা, ৩. ঝিকরগাছার কাগমারি দাখিল মাদরাসা, ৪. ঝিকরগাছার বেজিয়াতলা আলিম মাদরাসা, ৫. যশোর সদরের নারাঙ্গালী দাখিল মাদরাসা, ৬. যশোর সদরের হজরত শাহ ওলিউল্লাহ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা, ৭. যশোর সদরের বাজেদুর্গাপুর দাখিল মাদরাসা, ৮. যশোর সদরের সাড়াপোল দারুস সালাম দাখিল মাদরাসা, ৯. শার্শার ঘিবা দারুল উলুম মাদরাসা, ১০. মণিরামপুরের ধলিয়ানী সুন্দলপুর আলিম মাদরাসা
গত ৬ জুলাই ২ হাজার ৭১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করে সরকার। এরমধ্যে যশোরের ১০টিসহ ৩৬৬টি মাদরাসা ছিলো। ২৬৪টি দাখিল মাদরাসা, ৮৫টি আলিম মাদরাসা, ৬টি ফাজিল মাদরাসা ও ১১টি কামিল মাদরাসা এমপিওভুক্ত করা হয়। এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিও কোড দিয়েছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর।
অধিদফতর বলছে, এ মাদরাসাগুলোকে এমপিও কোড দিতে মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির মতামতের ভিত্তিতে আদরাসার অনুকূলে এমপিও কোড বরাদ্দ দেয়া এবং ব্যাংকের নাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১১ (সংশোধিত ২০২০ এবং পরিমার্জিত ২০২১) অনুযায়ী এমপিও কোডপ্রাপ্ত মাদরাসায় বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত ও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পেতে আবেদন করতে হবে।
নতুন এমপিও কোড পাওয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ বা সুপার নির্ধারিত ফরমে অনলাইনে আবেদন করে মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের মেমিস সফটওয়্যারে (www.memis.gov.bd) রেজিস্ট্রশন সম্পন্ন করবেন। রেজিস্ট্রশন সম্পন্ন হওয়ার পর উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকে আইডি ও পাসওয়ার্ড প্রাপ্তি স্বাপেক্ষে মেমিস সফটওয়্যারে লগইন করে শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করবেন। তালিকা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মাদরাসার জন্য নির্ধারিত ব্যাংকে প্রত্যেক শিক্ষক-কর্মচারী বেতন-ভাতাদি প্রাপ্তির জন্য ডিজিটাল হিসাব খুলতে হবে।
এমপিও কোডপ্রাপ্ত মাদরাসার বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত ও যোগ্য শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রত্যেককেই আলাদাভাবে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ (সংশোধিত ২০২০ এবং পরিমার্জিত ২০২১) এর পরিশিষ্ট-৬ তে নতুন এমপিওর জন্য বর্ণিত ডকুমেন্টস সংযুক্ত করে অধ্যক্ষ বা সুপারের মাধ্যমে উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর মেমিস অনলাইন সফটওয়্যারে আগস্ট থেকে প্রতিমাসের ৫ তারিখ বিকাল ৫টার মধ্যে এমপিওভুক্তির আবেদন দাখিল করবেন।বউপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাদরাসা থেকে অনলাইনে প্রাপ্ত আবেদন যাচাই-বাছাইপূর্বক প্রতিমাসের ১০ তারিখ বিকাল ৫টার মধ্যে মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের মেমিস (MEMIS) সফটওয়্যারে পাঠাবেন।
অধিদফতর আরো বলছে, মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও মাদরাসার অধ্যক্ষ বা সুপারের যৌথ স্বাক্ষরে তিনশ টাকার ননবজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দফতরে দাখিল করে তার স্ক্যানকপি অনলাইন আবেদনে সংযুক্ত করতে হবে।
এমপিওভুক্তির জন্য জাল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ বা নিবন্ধন সনদ, জাল নিয়োগসহ অন্যান্য অবৈধ ডকুমেন্টস-রেকর্ড দাখিল এবং প্যাটার্ন বহির্ভূত পদে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করলে মাদরাসার প্রধান, পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে অধিদফতর।
এমপিও কোড দিয়ে ৩৬৬টি মাদরাসার তালিকা, অঙ্গীকারনামার নমুনা এবং রেজিস্ট্রেশনের আবেদন ফরম প্রকাশ করেছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর।

