আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অবশেষে চাপের কাছে হার মেনে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হচ্ছে বরিস জনসনকে। নিজ দলের মন্ত্রী এবং সদস্যদের বিদ্রোহের মুখে আজকেই পদত্যাগ করবেন তিনি। একইসঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের প্রধানের পদও ছাড়তে হচ্ছে তাকে।
বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) ১০নং ডাউনিং স্ট্রিটের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, বিভিন্ন কারণে পদত্যাগে রাজি হয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। একাধিক কেলেঙ্কারির কারণে তিনি নিজ দলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিদ্রোহের মুখোমুখি হয়েছিলেন।
তিনি এমন সময়ে পদত্যাগ করছেন যখন তার দলের নেতৃত্বাধীন সরকার থেকে ৫০ জনেরও বেশি সদস্য পদত্যাগ করেছেন। ব্রিটেনে বিরোধী দলে থাকা লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার এ সম্পর্কে বলেছেন, বরিসের এমন পদত্যাগের বিষয়টি দেশের জন্য সুসংবাদ।
সিএনএন জানিয়েছে, আজই পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বরিস জনসন। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনি এ বিষয়ে বিবৃতি দেবেন। জনসন তার কনজারভেটিভ পার্টির নতুন নেতা নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যেতে পারবেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিকভাবে লড়াই ছাড়া পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেছিলেন। এ সময় তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ও মন্ত্রিপরিষদ বিষয়ক মন্ত্রী মাইকেল গভকে বরখাস্ত করেছিলেন। জনসনকে গভ বলেছেন, আপনার সময় শেষ হয়েছে। তিনি চেষ্টা করেছিলেন যেন জনসন এটা প্রকাশ্যে নিজের মুখে স্বীকার করেন।
এর আগে মঙ্গলবার থেকে এখন পর্যন্ত ৫০ জনের বেশি মন্ত্রী বর্তমান সরকার থেকে পদত্যাগ করেছেন। কনসারভেটিভ পার্টির এমপি ও সাবেক ডেপুটি চিফ হুইপ ক্রিস পিনশারের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন অসদাচরণের অভিযোগের বিষয়গুলো যেভাবে প্রধানমন্ত্রী সামাল দিয়েছেন তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর চলতি বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
পিনশারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল যে তিনি একজনের ওপর যৌন হামলা চালিয়েছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগ সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পরও জনসন কেন তাকে ডেপুটি চীফ হুইপ নিয়োগ করেন? এমন বিভিন্ন অভিযোগের কারণেই মূলত তোপের মুখে পড়েন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
সূত্র : বিবিসি, সিএনএন
জাগো/এমআই

