সংসদ নির্বাচন ঘিরে রোডম্যাপ করছে ইসি

আরো পড়ুন

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মপদ্ধতি (রোডম্যাপ) ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সচিবালয় রোডম্যাপের খসড়া প্রস্তুত করে কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন কমিশনে জমা দিয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, আইন সংস্কার, নতুন দলের নিবন্ধন, পর্যবেক্ষণ সংস্হার নিবন্ধন, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ রোডম্যাপে গুরুত্ব পেয়েছে। আগামী ২০২৪ সালের জানুয়ারি প্রথম সপ্তাহকে নির্বাচনের টার্গেট করে রোডম্যাপ প্রস্ত্তত হচ্ছে। আগামী ১৭ জুলাই শুরু হতে যাওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পরে রোডম্যাপটি চূড়ান্ত করবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব খান বলেন, সচিবালয়ের খসড়া রোডম্যাপটি বাস্তবভিত্তিক করার জন্য কমিশন বসে সিদ্ধান্ত নেবে। বিশেষ করে সবদলের অংশগ্রহণে আগামীতে কীভাবে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেই বিষয়ের ওপর অধিক গুরুত্ব থাকবে। তবে এবার গতানুগতিক কোনো রোডম্যাপ হবে না। বাস্তবভিত্তিক রোডম্যাপ প্রণয়ন করে তার সফলতাই মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পর এটি চূড়ান্ত করা হতে পারে।

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ মেয়াদ হচ্ছে প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর নতুন গঠিত আইন সভার প্রথম অধিবেশন বসে ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি। সংবিধানের ১২৩ (৩) (ক) অনুযায়ী মেয়াদ-অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে গেলে ভেঙে যাওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারির মধ্যেই দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

ইসির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানা গেছে, এবারের রোডম্যাপটি সময়োপযোগী ও বাস্তবায়নযোগ্য করার জন্য কমিশন কাজ শুরু করেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের টার্গেট করে রোডম্যাপ চূড়ান্ত হবে। এক্ষেত্রে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে তপশিল ঘোষণার পরিকল্পনাও থাকবে কমিশনের। তবে আগামী ১৭ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত শুরু হতে যাওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে এ বিষয়ে পরামর্শ চাইবে কমিশন। নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শ-সুপারিশ প্রাধান্য পাবে চূড়ান্ত রোডম্যাপে। সংসদ নির্বাচন ঘিরে কী কী কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করবে, কমিশন তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে রোডম্যাপে। ২০২৩ সালের জুন-জুলাই মাসের মধ্যে সব ধরনের কার্যক্রম শেষ করবে ইসি। বিশেষ করে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই নতুন দলের নিবন্ধন শেষ করা হবে। গত ২৬ মে নতুন দল নিবন্ধনে জারিকৃত গণবিজ্ঞপ্তিতে আগামী ২৯ আগস্টের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য আবেদন আহবান করা হয়। সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের কাজ অক্টোবর-নভেম্বর থেকে শুরুর পরিকল্পনা আছে। আগামী মার্চের মধ্যে শেষ করা হবে। যদিও সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হবে না। বিদ্যমান সীমানা বহাল থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

ইসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনের আনার লক্ষ্যে এবারের রোডমাপ প্রণয়ন করে চূড়ান্ত হবে। সেক্ষেত্রে যা যা করার তাই করতে প্রস্ত্তত কমিশন। রোডম্যাপটি চূড়ান্ত করার পর তা বই আকারে সবার মধ্যে প্রকাশ করা হবে।

এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কে এম নুরুল হুদার কমিশন ২০১৭ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ তৈরি করেছিলেন। সেসময় আইন সংস্কার, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ, নতুন দলের নিবন্ধন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, সংলাপ ও দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়গুলো রোডম্যাপে রেখেছিলেন তারা। কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশন প্রাথমিক সংলাপ দায়িত্ব নিয়েই শুরু করেছে। সুশীলসমাজ, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, পর্যবেক্ষক, সেবা সংস্থার পর ইতোমধ্যে ইভিএম ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় শেষ হয়েছে। এছাড়া সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে, শুরু করেছে ভোটার তালিকা হালনাগাদও।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ