মহানবীকে কটূক্তি করায় ভারতীয় হিন্দুকে হত্যা করল মুসলিমরা

আরো পড়ুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মহানবীকে অসম্মান করায় ভারতীয় হিন্দুকে হত্যা করল মুসলিমরা বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতে ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে অসম্মানের কারণে ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য রাজস্থানে এক হিন্দু ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবারের (২৮ জুন) ওই হত্যাকাণ্ডের সাথে দু’মুসলিম জড়িত ছিলেন।

বিজেপির মুখপাত্র নুপুর শর্মা কর্তৃক মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে অসম্মান করে যে বক্তব্য দেয়া হয়েছিল তাকে সমর্থন করেছিল ওই ভারতীয় হিন্দু ব্যক্তি। ওই বিতর্কিত মন্তব্যকে জোরালো সমর্থন করায় স্থানীয় দু’মুসলিম ব্যক্তি তাকে হত্যা করেন। তারা ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ভিডিও করে তা অনলাইনে পোস্টও করেন। এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর সরকার ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করেছে এবং বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে। পুলিশ ওই দু’মুসলিম ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। অনলাইনে পোস্ট করা ভিডিওতে তারা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করার কারণে, তাদের শনাক্ত করা সহজ হয়েছে।

এ দু’মুসলিম ব্যক্তি অন্য একটি ভিডিওতে ওই ইসলামবিদ্বেষী হিন্দু ব্যক্তিকে হত্যা করে গর্ব প্রকাশ করেছেন। এছাড়া ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও হুমকি দিয়েছেন তারা।

এদিকে গণমাধ্যমকে হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সম্প্রচার না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন রাজস্থানের একজন শীর্ষ স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা। কারণ, তার মতে এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি দেখতে খুব ভয়ঙ্কর।

ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি একজন দর্জি। তার নাম কানহাইয়া লাল। তিনি রাজস্থানের উদয়পুর জেলার বাসিন্দা। অভিযোগ আছে যে তিনি বিজেপির মুখপাত্র নুপুর শর্মার ইসলামবিরোধী বক্তব্যকে সমর্থন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছিলেন। গত মাসে ওই নুপুর শর্মার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতে ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ওই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছ থেকে প্রবল কূটনীতিক চাপের মুখোমুখি হয় ভারত। এ কারণে বাধ্য হয়ে বিজেপি তাদের এ মুখপাত্রকে বরখাস্ত করে।

বিতর্কিত ওই মন্তব্যের কারণে ভারতে ধর্মীয় বিক্ষোভ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পাথর ছুঁড়ে এবং সরকারী সম্পত্তির ক্ষতি করে। পরে ওই বিক্ষোভ ব্যাপক সহিংস রূপ ধারণ করে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, কানহাইয়া লালকে হত্যার তিন সপ্তাহ আগে তিনি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে পুলিশের কর্তৃক গ্রেফতার হয়েছিলেন। এরপর তিনি মুক্তির পর জীবননাশের হুমকির কথা উল্লেখ করে পুলিশি নিরাপত্তা চেয়েছিলেন।

একজন পুলিশ কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেছেন, ওই ঘটনার পরে পুলিশ কিছু হিন্দু ও মুসলমানকে শান্তি বৈঠকের জন্য ডেকেছিল। এরপর কানহাইয়া লাল বলেছিলেন যে কারও বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার নেই।

সূত্র : বিবিসি

জাগো/এমআই

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ