দাঁত দেখে ধর্ষণের আলামত পরীক্ষা!

আরো পড়ুন

ডেস্ক রিপোর্ট: বরগুনায় ধর্ষণের শিকার এক স্কুলছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা না করেই প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে সোমবার (১৩ জুন) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দিয়েছেন ভিকটিম।

অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম ফারহানা ইয়াসমিন লিয়া। তিনি বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী সার্জন।

ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য আমতলী থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে ১৯ মে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে জেলার আমতলীর কলাগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় ফারুক হাওলাদারের ছেলে রুবেল হাওলাদারের বিরুদ্ধে বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি ধর্ষণ মামলা করেন।

ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান ভিকটিমকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে নির্দেশ দেন।

ভিকটিম ২২ মে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে যান। তাকে শনাক্ত করেন আইনজীবী তানজিবুল হোসাইন সুজন। তার ডাক্তারি পরীক্ষা করে ডা. ফারহানা ইয়াসমিন লিয়া। গত ১১ জুন ট্রাইব্যুনালে ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন দেন। তবে প্রতিবেদনে ভিকটিমের শরীরে ধর্ষণের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিকটিম কিশোরীর অভিযোগ করে বলেন, ‘১২ মে রাতে আসামি রুবেল আমাকে ধর্ষণ করে। এতে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। কিন্তু ডাক্তার আমার ধর্ষণের আলামতের কোনো পরীক্ষা করেননি। শুধুমাত্র মুখের দাঁত দেখে ও শেষ মাসিক কবে হয়েছে জেনে আমাকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন।’

ওই কিশোরীর ভাষ্য, ডাক্তার তার ধর্ষণের আলামতের পরীক্ষা না করে ২০ দিন পর আদালতে রিপোর্ট দিয়েছেন। ওই রিপোর্টে তার সতীচ্ছেদ অক্ষত আছে বলেও জানান তিনি। ভিকটিম কিশোরী বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুনরায় নিজের ডাক্তারি পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

ভিকটিমের বাবা ইউসুফ বলেন, ‘আমার মেয়েকে রুবেল ধর্ষণ করেছে। সে দুই লাখ টাকা দিয়ে আমার সঙ্গে আপোস করতে চেয়েছে। আমি রাজি হইনি। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই। বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মো. সোহরাব উদ্দীন ও ডা. ফারহানা ইয়াসমিন লিয়া রুবেলের কাছ থেকে ‘সুবিধা’ নিয়ে আমার মেয়েকে ধর্ষণের পরীক্ষা না করেই মিথ্যা রিপোর্ট দিয়েছেন।’

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের ত্বত্তাবধায়ক ডা সোহরাব উদ্দীন জানান, ডা. ফারহানা ইয়াসমিন লিয়া সঠিকভাবে পরীক্ষা করেছেন। তিনি যা পেয়েছেন, রিপোর্টে সেটাই লিখেছেন।

তিনি আরও বলেন, ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি মানে ধর্ষণ হয়নি এটা ঠিক নয়। ডাক্তার যখন পরীক্ষা করেছেন তখন ধর্ষণের আলামতের চিহ্ন পায়নি।

অভিযুক্ত ডা. ফারহানা ইয়াসমিন লিয়া বলেন, ‘আমি তাকে বিধি মোতাবেক সঠিকভাবে পরীক্ষা করেছি। আমি যা পেয়েছি প্রতিবেদনে সেটাই উল্লেখ করেছি। এর বেশি কিছু আমার বলার নয়।’

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম মিজানুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মামলা রেকর্ড করা হবে। এছাড়া মামলাটি তদন্ত করে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।

জাগো/এমআই

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ