ঢাকা অফিস: হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে। তিনি স্বাভাবিক কথাবার্তাও বলছেন। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
রবিবার (১২ জুন) সকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান একথা জানিয়েছেন।
শায়রুল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল আছে। দুশ্চিন্তা করার মতো পরিস্থিতি নেই। তিনি কথা-বার্তা বলতে পারছেন।’
গতকাল শনিবার হার্টে রিং পরানোর পর থেকে খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) আছেন। ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সার্বক্ষণিক তার খোঁজ-খবর রাখছেন। রবিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখে বের হয়ে জানিয়েছেন, তিনি এখন নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।
এদিকে তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা যোগাযোগ রাখছেন। অন্যদিকে লন্ডন থেকে তার বড় ছেলে তারেক রহমান ও স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।
শায়রুল কবির বলেন, বাসার ব্যক্তিগত সহকারীরা হাসপাতালেও খালেদা জিয়ার সঙ্গে আছেন। এছাড়া খালেদা জিয়ার ভাই, বোন ও ভাইয়ের স্ত্রী নিয়মিতভাবে তাকে দেখে যাচ্ছেন।
খালেদা জিয়ার করোনাসংক্রান্ত কোনো জটিলতা নেই। গতকাল শনিবার হাসপাতালে তাঁর শ্বাসকষ্ট (সাফোকেশন) দেখা দিলেও আজ শ্বাসকষ্ট হচ্ছে না।
শুক্রবার দিবাগত রাতে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন খালেদা জিয়া। পরে দ্রুত তাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
গত বছরের ১৩ নভেম্বর থেকে খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর তার শরীরে কয়েক দফায় অস্ত্রোপচার করা হয়। ২৮ নভেম্বর চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়েছেন।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। সেই দিনই তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে সেই সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট। পরে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলাতেও তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হলে সরকারপ্রধানের নির্বাহী আদেশে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ শর্তসাপেক্ষে দণ্ড স্থগিত করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে ছয় মাসের জন্য সাময়িকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর কয়েক দফায় খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
জাগো/এমআই

