আমাদের এই যশোর জেলা বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির একটি প্রাচীন জনপদ। গুণী, জ্ঞানী, মনীষীদের জন্মধন্য ঐতিহ্যবাহী এই যশোর। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় এই যে, যশোরে প্রবাহমান ধারার সংস্কৃতির যে গতি সেটা এমন যে প্রত্যেক কর্মকর্তারই বিভিন্ন নামে নিজস্ব সংগঠন আছে। সেই সংগঠনের কর্মকান্ড নিয়ে তারা নিয়মিত ব্যস্ত থাকেন। অথচ যশোর শিল্পকলা একাডেমিতে তাদের পদ পদবী থাকতেই হবে এর কারন কি বোধগম্য নয়। তবে যশোরবাসী রসাত্বকভাবে বলে থাকেন নামের পাশে অলঙ্কার-তিলক ইত্যাদি বিশেষণ প্রাপ্তি কি কম কথা ? এই অপকৌশল ও দখলদারীত্বের কারণে বাঙালিপনার ধারা ও শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চার গতি ভীষনভাবে বাধাগ্রস্থ করছে।
যশোর শিল্পকলা একাডেমীর নির্বাচন আসন্ন, এই মুহুর্তে সংস্কৃতিসেবীদের নতুন করে ভাবতে হবে। বিশেষ একটি গোষ্ঠী বিগত ১০ বছর ধরে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে অতি গোপনে তাদের স্বেচ্চাচারী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বিগত কমিটির সেই একই মানুষগুলো নতুন কাউকে সুযোগ না দিয়ে নিজেদের একক ক্ষমতাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যেটা যশোর বাসীর জন্য মহাক্ষতির কারণ।
এক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, বিগত ২০১৩ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পরপর ৩ বার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্বরত ছিলেন একই ব্যক্তি এবং এবারও সেই মানুষটিই সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনের প্রার্থী এবং এই পর্ষদের প্রায় সকলেই অদল-বদল করে একই পর্ষদে আছে। যাদের হাতে কোনোভাবেই সংস্কৃতি বিকশিত হচ্ছে না। বিষয়টি কতটুকু যুক্তিযুক্ত যশোরবাসীর ভাবনা ও মতামতের জন্য পেশ করলাম।
এছাড়াও সাধারণ সদস্য পদ প্রদানে তাদের যে ভূমিকা অর্থাৎ সদস্য হতে না দেওয়া, তাদের নিজেদের স্কুলের ছাত্র/ছাত্রী, আত্মীয় ছাড়া সদস্য হতে পারা অসম্ভব একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেতৃত্বের জন্য এই দলটিই গত নির্বাচনে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে বিভক্ত হয়ে মুখোমুখি নির্বাচন করেছিল। এবার তাদের ভিতর নতুন শংঙ্কা ভর করবার কারনে দুইদল জোটবদ্ধ হয়ে একদলীয় প্লাটফর্মে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ন হয়েছে। যাতে করে অন্য আর কেউ বা দল বিপক্ষে ভোটে দাড়াতে সাহস না পায়। আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার- আমি, আপনি, আমরা এই যশোরের গর্বিত নাগরিক। আমাদের দায়িত্ব শিল্পের এই ইজারাদারদের হাত থেকে যশোরের শিল্পকলা একাডেমীকে মুক্ত ও বাঁচানোর সময় এখনই। রংধনু পরিষদের পক্ষ থেকে সকলের সুন্দর আগামীর সফলতা কামনা করছি।
কাসেদুজ্জামান সেলিম

