আগামী ২৫ জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতুর শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশজুড়ে বর্ণিল উৎসবের আয়োজন করছে সরকার। এর পাশাপাশি দলীয় ভাবেও ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। পদ্মা পাড়ে জনসভার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। জনসভায় ব্যাপক শোডাউন করার পরিকল্পনা নিয়ে দলটির পক্ষ থেকে। জনসভায় প্রায় দশ লক্ষাধিক মানুষের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করতে চায় ক্ষমতাসীনরা।
আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ২৫ জুন পদ্মার পাড়ে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী এলাকায় জনসভা আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। এতে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। বেলা ২ টায় জনসভাটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই সকালে মাওয়া প্রান্তে সরকারিভাবে আয়োজিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বপ্নের সেতুর উদ্বোধন করবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারি এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে সমাজের বিশিষ্টজনদের থেকে শুরু করে দেশের প্রায় সকল রাজনৈতিক দলের নেতাদের। আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার সহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রতিনিধিদের। সরকারি এই অনুষ্ঠানটি ডিজিটাল পর্দায় সরাসরি দেখানো হবে দেশের ৬৪ জেলার ৬৪টি স্পটে। এছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লেজার শোসহ নানা আয়োজেন বর্নিল বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশ জুড়ে উৎসব আয়োজন করা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। ঢাকায় হাতির ঝিলসহ নানা স্পটে থাকবে বিশেষ আয়োজন। এছাড়া রাজধানীর দোলাইপাড় থেকে পদ্মা সেতু পযর্ন্ত পুরো সড়কের দুই পাশ ও সাজানো হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ভাবে।
জানা গেছে, মাদারীপুরে পদ্মার পাড়ে কাঁঠালবাড়ীতেই জনসভা করবে আওয়ামী লীগ। জনসভায় ঢাকাসহ আশপাশের জেলা- উপজেলা- ইউনিয়ন ও গ্রাম থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ কমপক্ষে দশ লক্ষাধিক সাধারণ মানুষ অংশ নেবে বলে আশা করছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। এ জন্য ঢাকা মহানগর, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা জেলা, শরিয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর সহ আশপাশের জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এই ব্যাপারে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শরীয়তপুরের জাজিরা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত অন্তত ১০ লাখ মানুষের সমাগম হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী উদ্যোগের কারণেই পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ হতে যাচ্ছে। এই স্বপ্নপূরণে কোটি কোটি মানুষ অপেক্ষার প্রহর গুনছে। উদ্বোধনের দিন সারাদেশের মানুষ উৎসবে অংশ নেবে। কেউ সমাবেশস্থলে এসে, কেউ টেলিভিশনের মাধ্যমে। আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উৎসবে মেতে উঠবে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার পদ্মা সেতুর কাঁঠালবাড়ী এলাকার সমাবেশ স্থল পরিদর্শন করে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে ছিলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, মির্জা আজম ও এস এম কামাল হোসেন, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম, শরিয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন, জাজিরা উপজেলা চেয়ারম্যান মোবারক শিকদার। এই সময় জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারাও আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ছিলেন।
ই সময় বাহউদ্দিন নাছিম বলেন, পদ্মা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী এলাকায় জনসভা করা হবে। এ জনসভা কেন্দ্র করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলা এবং ঢাকা বিভাগের শরীয়তপুর ও মুন্সীগঞ্জ জেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক মুক্তি ঘটবে। এর ফলে মোংলা নৌবন্দর, পায়রা নৌবন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দরে অর্থনৈতিক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে। পদ্মা সেতুর যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে রেললাইনও যুক্ত হওয়ায় কী ধরনের অর্থনৈতিক তৎপরতা বাড়বে, তা চিন্তাই করা যায় না। পদ্মা সেতু আমাদের স্বপ্নের সেতু, এর জনসভাও ঐতিহাসিক হবে।
এদিকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সারা দেশে একযোগে দেখানোর ব্যবস্থা করতে ডিসিদের ইতোমধ্যেই চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ২৫ জুন মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরায় হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। দেশের ৬৪ টি জেলা অনুষ্ঠান সরাসরি দেখানো হবে বড় বড় পর্দায়। পাশাপাশি থাকবে লেজার শো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া এদিন ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হাতিরঝিলে লেজার শো প্রর্দশন করা হবে। উপলক্ষে ২৫ জুন থেকে পাঁচ দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠান চলবে ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুরসহ কয়েকটি জেলায়। মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ সূত্রে এমনই আভাস পাওয়া গেছে।

