বিএনপির টার্গেট ২৫ জুন

আরো পড়ুন

আগামী ২৫ জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা সেতুতে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিবেন। আমাদের পদ্মা সেতু, আমাদের অহংকার। এই পদ্মা সেতু অনেক প্রশ্নের জবাব। পদ্মা সেতু বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা এবং গৌরবের প্রতীক। আর এই পদ্মা সেতুকেই টার্গেট করেছে বিএনপি-জামায়াত জোট। আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের আগে রাজনীতিতে একটা অচলাবস্থা তৈরি করতে চায় বিএনপি-জামায়াত। আর এজন্যই রাজপথের আন্দোলনকে জোরালো করেছে বিএনপি। প্রথমে নামানো হয়েছে ছাত্রদলকে এবং এরপর যুবদলকে। বিএনপি সারাদেশে ২৫ জুনের আগেই একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়।

বিএনপির একাধিক সূত্রগুলো বলছে, ২৫ জুনে তারা হরতাল ডাকারও পরিকল্পনা নিচ্ছে। বিএনপি-জামায়াতের এই পরিকল্পনার কথা জেনেছে সরকারের নীতিনির্ধারক মহল।

আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেছেন, এটাই বিএনপির চরিত্র। শুধু পদ্মা সেতু নয়, বাংলাদেশের যেকোনো উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করাই বিএনপির কাজ।

গত কিছুদিন ধরে হঠাৎ করেই বিএনপি রাজপথের আন্দোলনকে জোরদার করেছে। প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের মিছিল এবং উস্কানিমূলক তৎপরতা সবার চোখে পড়ে। এরপর দ্বিতীয় দিনের মতো তারা আক্রমণাত্মক ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এর মধ্যে যুবদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে তড়িঘড়ি করে। সেই কমিটিও পূর্ণাঙ্গ ঘোষণা করা হয়নি। যুবদলের এই কমিটি ঘোষণার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে যেন মাঠের আন্দোলন জোরদার করা যায়, সেটি তাদের লক্ষ্য। এছাড়া সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপিকে কর্মসূচি গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এসবের মূল লক্ষ্য হলো, দেশে একটি পরিস্থিতি তৈরি করা।

বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি রয়েছে, সামনে বাজেট দেয়া হবে এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে অর্থনীতি একটু চাপের মুখে আছে। বিএনপি এই সুযোগটি গ্রহণ করতে চায়। এই সুযোগ নিয়েই তারা সরকারের ওপর চড়াও হতে চায়।

গত কিছুদিন ধরে বিএনপি নেতারা আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে উপস্থিত হচ্ছেন। বিশেষ করে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, সরকারকে এখন একটা ধাক্কা দিতে হবে, ধাক্কা দিলেই সরকার পড়ে যাবে। এ ধরনের উস্কানিমূলক ও আক্রমণাত্মক অবস্থানের কারণ হলো পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে এখান থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়াই বিএনপি প্রধান টার্গেট। বিএনপির নেতারাও বলছেন যে, পদ্মা সেতু উদ্বোধন হলে দেশের রাজনৈতিক আবহাওয়া পাল্টে যাবে। বিশেষ করে সরকারের জন্য এটি একটি বড় প্লাস পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হবে। আর সেজন্যই পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সময় একটি উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় বিএনপি। এর পেছনে রয়েছে জামায়াত। তবে আওয়ামী লীগ সরকার মনে করছে, বিএনপি অতীতে যেমন সফল হয়নি এবারও সফল হবে না। বরং পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিনটিকে একটি জাতীয় উৎসবে পরিণত করতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ মনে করছে যে, আগামী নির্বাচনে সরকারের জন্য যে ইতিবাচক দিকগুলো হবে তার মধ্যে অন্যতম পদ্মা সেতু। আর তাই এখন রাজনীতিতে প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়েছে এই স্বপ্নের সেতুটি। বিএনপি-জামায়াত এই স্বপ্নের সেতুর কার্যক্রম যখন শুরু হয় তখন থেকেই এর বিরোধিতা করেছিল। এমনকি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, পদ্মা সেতু আওয়ামী লীগের আমলে চালু হবে না এবং এই পদ্মা সেতু জোড়াতালি দিয়ে করা হচ্ছে। এখন যখন পদ্মা সেতু চালু হয়েছে, তখন বিএনপি-জামায়াত অন্য কৌশল গ্রহণ করেছে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ