রাজশাহী: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে স্কুলের গাছ থেকে আম পাড়ায় মা-ছেলেকে জুতাপেটা করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পালপুড় উচ্চ বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিয়ান কামারুজ্জামান টিপু ও পিয়ন খালেদ হোসেনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২১ মে) দুপুরের দিকে ওই বিদ্যালয়ে মারধরের ঘটনাটি ঘটেছে। বুধবার (২৫ মে) এ ঘটনার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে এ বিষয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
জানা যায়, রবিবার সকালে বিদ্যালয়ের এক আম গাছ থেকে খাওয়ার জন্য ভুক্তভোগী এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমন তিনটি আম পাড়ে। এসময় লাইব্রেরিয়ান কামারুজ্জামান টিপু ও পিয়ন খালেদ হোসেনের সঙ্গে সুমনের কথা-কাটাকাটি। প্রধান শিক্ষক আসাদুল আলম উভয়কে শান্ত করতে এগিয়ে আসলে পা পিছলে মাটিতে পড়ে যান।
উপস্থিত অন্য শিক্ষার্থীরা হাসাহাসি শুরু করলে লাইব্রেরিয়ান টিপু ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের পায়ের জুতা খুলে সুমনকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। এক পর্যায়ে মারধরে যোগ দেন পিয়ন খালেদ হোসেনও। সেখানে শিক্ষার্থী সুমনের মা বাঁচাতে আসলে তার উপরও জুতাপেটার আঘাত পড়ে।
অভিযুক্তরা সুমনকে জুতাপেটার কথা স্বীকার করে জানান, তারা ভেবেছিলেন ওই শিক্ষার্থী প্রধান শিক্ষককে ধাক্কা মেরেছে। সেই ক্ষোভের জায়গা থেকে তারা জুতা দিয়ে তখন ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করেন।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কামারুজ্জামান টিপু লাইব্রেরিয়ান পদে যোগদান করলেও শিক্ষক সংকট থাকায় প্রায়ই ক্লাস নিতেন। এসময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলে শিক্ষার্থীরা তার ক্লাস করতে অপারগতা প্রকাশ করতেন। এমনকি লাইব্রেরিয়ান হয়েও স্যার ডাকতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করতেন টিপু।’
এ বিষয়ে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আসাদুল আলম বলেন, ‘এই ব্যাচটা অনেক খারাপ ছিল। সেপ্টেম্বর থেকেই তারা বিভিন্ন ধরনের বেয়াদবি করে আসছে। বিভিন্ন ধরনের ফি বা বেতন দিতে চাইতো না। কিভাবে আদায় করবে দেখে নেব বলে হুমকি দিতো। স্যারদের সম্মান করতে জানে না।’
লাইব্রেরিয়ানের শাস্তির প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমি তো আর তাকে সাসপেন্ড করতে পারি না। তাকে মৌখিকভাবে শাসন করেছি। আমি তো আর তার বেতন বন্ধ করতে পারি না।’
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জানে আলম জানান, বুধবারই তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে জেনেছেন। এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাসও দেন তিনি।
জাগো/এমআই

