সাবান, শ্যাম্পু ও টুথপেস্টের দাম আরেক দফা বেড়েছে, বিপাকে মানুষ

আরো পড়ুন

দেশের বাজারে আরেক দফা বাড়লো সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্টসহ বিভিন্ন ধরনের নিত্যব্যবহার্য পণ্যের দাম, যা মানুষের সংসারের ব্যয় আরো বাড়াবে।

যেমন বাজারের সুপরিচিত একটি ব্র্যান্ডের এক কেজি ওজনের এক প্যাকেট গুঁড়া সাবানের দাম ১০ টাকা বেড়েছে। এই সাবান কিনতে সপ্তাহখানেক আগেও লাগতো ১৪০ টাকা, যা এখন ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কোম্পানির প্রতিনিধিরা নতুন দামের পণ্য বাজারে সরবরাহ করতে শুরু করেছেন। অবশ্য বেশির ভাগ দোকানে আগের দামের পণ্য বিক্রি হচ্ছে। পুরোনো ও নতুন সরবরাহ করা পণ্যের মোড়কে লেখা দামের তুলনা করে এবং বিপণনকারী কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে বাড়তি দামের চিত্র পাওয়া গেছে।

বিক্রেতারা বলছেন, গত বছরের শেষ দিক থেকেই একাধিকবার এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। নতুন করে বাড়ানো হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে। নতুন দামের পণ্য এখন বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।

বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিভিন্ন দাম, পরিমাণ ও ধরনের সাবান বিক্রি হয়। গতকাল রবিবার রাজধানীর কাঁঠালবাগান, পান্থপথ, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজারে দেখা যায়, ব্র্যান্ডভেদে এক কেজি ওজনের এক প্যাকেট গুঁড়া সাবানের দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। মাঝারি আকারের একটি কাপড় কাচা সাবানের দাম বেড়েছে তিন টাকার মতো। থালাবাসন ধোয়ার মাঝারি আকারের একটি সাবানের দাম বেড়েছে পাঁচ টাকা।

সুগন্ধি সাবানের দামও বেড়েছে, আকারভেদে প্রতিটিতে দুই থেকে চার টাকা। যেমন বাজারে সুপরিচিত একটি ১০০ গ্রাম ওজনের সুগন্ধি সাবানের দাম ছিল ৪০ টাকা, যা নতুন করে ৪২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজারের সুপরিচিত একটি ব্র্যান্ডের শ্যাম্পুর ১৮০ মিলিলিটারের বোতলের দাম ছিল ১৮০ টাকা, যা বাড়িয়ে ২০০ টাকা করা হয়েছে। দাঁত মাজার টুথপেস্টের দামও বাড়ানো হয়েছে। একটি ব্র্যান্ডের ৪৫ গ্রামের একটি টিউবের দাম ৪২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৫ টাকা করা হয়েছে।

ঢাকার কাঁঠালবাগান এলাকার মা জেনারেল স্টোরের মালিক আকরাম হোসেন বলেন, সাবানের দাম এখন নিয়মিত বিরতিতে বাড়ছে। কোনো পণ্যের দামই স্থিতিশীল নেই।

আপনি যদি কাপড় কাচার জন্য এক কেজি গুঁড়া সাবান, থালাবাসন ধোয়ার জন্য আধা লিটার তরল সাবান, একটি সুগন্ধি সাবান, এক বোতল শ্যাম্পু ও টুথপেস্ট কেনেন, তাহলে ব্যয় হবে ৫৫৭ টাকা, যা ঈদের আগের তুলনায় ৫০ টাকা বেশি। অর্থাৎ এই কয়েকটি পণ্য কেনার পেছনে আপনার আগের বাজেটের চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি ব্যয় করতে হবে।

কোম্পানিগুলো বলছে, দাম বাড়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। নিত্যব্যবহার্য পণ্য খাতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি ইউনিলিভার বাংলাদেশের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপস অ্যান্ড কমিউনিকেশনের প্রধান শামীমা আক্তার বলেন, বিশ্ববাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, পণ্যের ঘাটতি, জাহাজভাড়া বৃদ্ধি, দেশে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে কাঁচামাল আমদানি খরচ ও উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে। এ কারণে মূল্য সমন্বয় ছাড়া আর উপায় ছিল না।

তিনি বলেন, খরচ বাড়ার অনুপাতে আমরা যতটা সম্ভব ছাড় দিয়ে এই মূল্য সমন্বয় করেছি। দেশে চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটা-ময়দা, পেঁয়াজ, মাছ, ডিম, মাংস, দুধসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। সংসারের ব্যয় সামলাতে সীমিত আয়ের মানুষের দিশেহারা অবস্থা। এমন সময় সাবান-টুথপেস্টের দাম বেড়ে যাওয়া তাদের আরো চাপে ফেলবে।

রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরী বাজারের বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজে শ্যাম্পু কিনতে যাওয়া নান্নু জানান, তিনি যেখানে মাস চুক্তিতে খাওয়া দাওয়া করেন, সেখানে আগে দুই বেলা খাওয়ার জন্য নিতো দুই হাজার টাকা। এখন নেয় সাড়ে তিন হাজার টাকা। তিনি বলেন, আমরা চলবো কীভাবে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ