জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটার কিনে নিয়ে সাড়া ফেলে দেয়ার দুদিনের মাথায় এবার আরেক চমক দিলেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও টেসলার প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। জানালেন নিজের নতুন লক্ষ্যের কথা। আর তা হলো যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি কোকাকোলা কিনে নেয়া।
এনডিটিভি, ইনসাইডার, দ্য ইকোনমিক টাইমসসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, এক টুইটবার্তায় কোকাকোলা কোম্পানি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মাস্ক। অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ওই টুইটবার্তায় তিনি লেখেন, এরপর আমি কোকাকোলা কিনতে যাচ্ছি, এতে (কোকাকোলায়) পুনরায় কোকেন ফিরিয়ে আনার জন্য।
কোকাকোলায় একসময় কোকেন ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ উঠলেও এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। ফলে অপ্রমাণিত একটি বিষয় সামনে তুলে আনায় একদিকে যেমন মাস্কের সমালোচনা করছেন অনেকে, আবার অনেকেই বিষয়টিকে দেখছেন টুইটারের নতুন মালিকের মজা হিসেবে।
এর আগে, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে টুইটার কিনে নেন টেসলার কর্ণধার ইলন মাস্ক। এর মাধ্যমে পুরোপুরি ব্যক্তিমালিকানায় চলে গেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে মাস্কের টুইটার কেনা ও এর ভবিষ্যৎ নিয়ে এরই মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছেন বিশিষ্টজনরা।
ইলন মাস্কের টুইটার কেনা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ও আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসও। চীন সরকারকে টুইটারে বাড়তি সুবিধা দিতেই মাস্ক প্রতিষ্ঠানটি কিনেছেন বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, এরই মধ্যে টুইটার ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন বহু ব্যবহারকারী। যদিও মাস্কের টুইটার ক্রয়ের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থিরা। ফলে মাস্কের মালিকানায় টুইটারে বিদ্বেষ আরো বাড়বে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেকে।
টুইটারে ৮ কোটি ৪২ লাখের বেশি অনুসারী থাকলেও আরেক জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কোনো অ্যাকাউন্ট নেই ইলন মাস্কের। ফেসবুকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়গুলো নিয়েও বরাবরই নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে এসেছেন তিনি।
তবে এবার সেই ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়গুলোকেই আরো শক্তিশালী করা, টুইটারকে আরো স্বচ্ছ করার পাশাপাশি বাকস্বাধীনতার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন ইলন মাস্ক।

