অস্থির ভোজ্যতেলের বাজার, মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়াই দফায় দফায় বাড়ছে দাম

আরো পড়ুন

ফের অস্থির হয়ে উঠেছে ভোজ্যতেলের বাজার। গত শনিবার বিশ্বে পাম অয়েলের সবচেয়ে বড় রফতানিকারক দেশ ইন্দোনেশিয়া তেল রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই দেশের বাজারে লাগামহীনভাবে বাড়ছে সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম। গত দুই দিনের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ও পাম অয়েলে ১৫ থেকে ১৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

উল্লেখ্য, গত প্রায় দুই বছর ধরে সয়াবিন ও পাম অয়েলের বাজার চড়া। দেশের বাজারে দাম কমাতে সম্প্রতি ভোজ্যতেলের বিভিন্ন পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) কমানো হয়। এতে দাম কিছুটা কমে। কিন্তু এখন আবার লাগামহীনভাবে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম ।

ইন্দোনেশিয়া পাম অয়েল রফতানি বন্ধ করায় এক শ্রেণির ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে বাজারে সয়াবিন, পাম অয়েলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে তারা ভোজ্যতেলের বাজার অস্হিতিশীল করে তোলার চেষ্টা করছে।

সূত্র জানিয়েছে, এই চক্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়াই বাজারে দফায় দফায় সয়াবিন, পাম অয়েলের দাম বাড়াচ্ছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৬৫ থেকে ১৭২ টাকা ও খোলা পাম অয়েল ১৫৮ থেকে ১৬৩ টাকায় বিক্রি হয়। যা দুই দিন আগেও যথাক্রমে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা ও ১৪০ থেকে ১৪৮ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

যদিও সরকার খুচরা বাজারে বিক্রির জন্য প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৩৬ টাকা ও পাম অয়েল ১৩০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। সরকারের বিপণন সংস্হা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) গতকাল তাদের বাজারদরের প্রতিবেদনে সয়াবিন তেল, পাম অয়েলের দাম বাড়ার বিষয়টি জানিয়েছে। সরকারের এ সংস্হাটির হিসেবে গত বছর এই সময় দেশে খুচরা বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১২০ থেকে ১২৩ টাকা ও খোলা পাম অয়েল ১০৬ থেকে ১১০ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে।

বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার বাজারেও ভোজ্যতেলের দাম বাড়তি। ফলে দেশটি তাদের নিজেদের বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে দাম কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে গত শনিবার রফতানি বন্ধের এ ঘোষণা চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হবে। এখন যেসব তেল রফতানির জন্য পাইপলাইনে রয়েছে, সেগুলো শুধু রপ্তানি করা হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। জানা গেছে, বিশ্বব্যাপী পাম অয়েলের চাহিদার ৩৯ শতাংশই ইন্দোনেশিয়া রপ্তানি করে। এর পরেই রয়েছে মালয়েশিয়া। তারা রফতানিকরে ২৭ শতাংশ। এর বাইরে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, চীন, আর্জেন্টিনা সীমিত আকারে পাম অয়েল উত্পাদন ও রফতানি করে।

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা বলেন, ইন্দোনেশিয়া পাম অয়েলের বড় রফতানিকারক দেশ। তাই তাদের রফতানি বন্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী এর প্রভাব পড়বে। এরই মধ্যে বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। সামনে দাম আরো বাড়তে পারে বলে জানান তিনি। তবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ঢাকা জেলা অফিসপ্রধান আব্দুল জব্বার মণ্ডল বলেন, আমরা ভোজ্য তেলেরবাজারে অভিযান পরিচালনা করব। কেউ কারসাজি করে তেলের দাম বাড়ালে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্হা নেয়া হবে। তেল নিয়ে কোনো ধরনের নৈরাজ্য মেনে নেয়া হবে না।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ