বন্যার শঙ্কা, আধাপাকা ধান ঘরে তুলছে হাওরবাসী

আরো পড়ুন

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার প্রধান নদ-নদীর পানি বেড়ে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এজন্য এসব অঞ্চলের পাকা ধান দ্রুত কেটে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। এতে তাড়াহুড়ো করে কাঁচা ও আধাপাকা ধান ঘরে তুলছেন কৃষকেরা।

বোরো ধান ৮০ শতাংশ পাকলে কেটে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি অধিদফতর। সংগৃহীত ধান নিরাপদ ও শুকনো জায়গায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া পরিপক্ব সবজি দ্রুত সংগ্রহ করা, নিষ্কাশন নালা পরিষ্কার রাখা, জমির আইল উঁচু করা, সেচ, সার ও বালাইনাশক দেওয়া থেকে বিরত থাকা, পুকুরের চারপাশ উঁচু করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) গণমাধ্যমকে জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টা মধ্যে দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন আসাম, মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশের কিছু স্থানে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে ৭২-৯৬ ঘণ্টার মধ্যে নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার কিছু পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) তথ্য মতে, ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে আবার ভারী বৃষ্টি হয়েছে। উজানে বৃষ্টি হওয়ার কারণে সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি আবারও বাড়ছে। টাঙ্গুয়া ও আশপাশের হাওরগুলোতে পানির চাপ রয়েছে সবচেয়ে বেশি। এ কারণে সেখানে থাকা বাঁধগুলো রয়েছে ঝুঁকিতে। ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কৃষকেরা। অনেকে তাড়াহুড়ো করে আধাপাকা ধান ঘরে তুলছেন।

তাহিরপুরের কৃষক আবুল খন্দকার বলেন, বৃষ্টিপাতের খবর শুনে আমরা দ্রুত ধান কাটছি। ২৮ জাতের ধানের তেমন ক্ষতি হবে না। তবে ২৯ জাতের ধান ক্ষতি হবে। এজন্য তাড়াহুড়ো করে কাটছি।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হান করিব বলেন, বাঁধে পানির চাপ বেড়েছে। সমস্যা হচ্ছে টাঙ্গুয়ার হাওরের বাঁধগুলো নিয়ে। এখানে দিনরাত কাজ করতে হচ্ছে। দেখা গেছে, একদিকে কাজ করলে অন্যদিকে ফাটল দেখা দেয়। আবার ধসে যাচ্ছে। তখন সেখানেও কাজ করতে হয়।

হাওর রক্ষায় প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমরা হাওরের ফসল রক্ষায় দিনরাত কাজ করছি। এটা অন্য রকম এক যুদ্ধ বলা চলে। মাঝখানে পানি কিছুটা কমেছে। কিন্তু এখন আবার বাড়বে, শঙ্কা কাটছে না। অনেক স্থানে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। আবার ঢল এলে, পানির চাপ আরও বাড়লে, বাঁধগুলো ঠেকানো মুশকিল হবে।

জেলা প্রশাসক জানান, গত ৩০ মার্চ থেকে ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জি থেকে নামা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে অস্বাভাবিকভাবে পানি বাড়ছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে জেলার সব হাওরের বোরো ফসল। গত ২ এপ্রিল প্রথমে তাহিরপুর উপজেলার টাক্সগুয়ার হাওরের একটি বাঁধ ভেঙে ফসল তলিয়ে যায়। এরপর একে একে ছোট-বড় আরও ১০টি হাওরের ফসলহানি ঘটেছে। তবে জেলার বড় হাওরগুলোর ফসলের এখনও ক্ষতি হয়নি।

এদিকে হাওরের বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কার মধ্যে আজ শনিবার (১৬ এপ্রিল) সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চাপতি হাওরে বাঁধ ও ধানক্ষেত পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাকের। সদর উপজেলার জাওয়ার হাওরে আগাম জাত বিনা ধান-১৭ কাটা ও কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে তার।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ