নেত্রকোনা: জীবিত আছেন আব্দুল মৌলু। কিন্তু কাগজপত্রে তিনি ‘মৃত’। নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন অফিসে ঘুরে এখন ক্লান্ত তিনি। দীর্ঘদিনে নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে না পারায় রাষ্ট্রীয় সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
উপজেলা নির্বাচন কমিশনের গাফিলতির কারণে এমন হয়রানির স্বীকার হয়েছেন নেত্রকোনার মদন উপজেলার আব্দুল মৌলু। তিনি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড পূর্ব জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের বাসিন্দা। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযারী তার পিতার নাম দুলো মিয়া ও মাতার নাম মোসা. জমশেদা খাতুন। তার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (৭২২৫৬০৮৭৩৬৭৮৮) থাকলেও সেখানে তিনি মৃত।
ভুক্তভোগী আব্দুল মৌলুর সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবেশী লোকজনের মতো তারও জাতীয় পরিচয়পত্র আছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত মদন পৌর নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে জানতে পারেন তিনি মৃত। এমন খবরে এলাকার লোকজনও হতভম্ভ হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি যাচাই করতে মদন নির্বাচন অফিসে যান আব্দুল মৌলু। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন তিনি মারা গেছেন। এর পর থেকেই নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে আবেদন নিয়ে ঘুরে এখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।
আব্দুল মৌলু বলেন, আমি এখনো জীবিত। কিন্তু কাগজপত্রে আমি মারা গেছি। নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে নির্বাচন অফিসের কথামতো বেশ কয়েকবার আবেদন করেছি। গত দুই দিন আগে আবারো আবেদন করেছি। এখন কি করব বুঝছি না। কাগজপত্রে আমি মৃত থাকায় সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।
তিনি আক্ষেপ করে আরো বলেন, এই হলো আমাদের দেশ, যে দেশে জীবিত থেকেও মৃত হয়ে বাঁচতে হয়। জানি না নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে আর কতদিন ঘুরতে হবে আমায়।
মদন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হামিদ ইকবাল বলেন, আব্দুল মৌলুর জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরটি দিয়ে যাচাই করে দেখেছি। সেখানে তাকে মৃত দেখাচ্ছে। তথ্য সংগ্রহের সময় ভুল হলে মূলত এ সমস্যা হয়ে থাকে। আব্দুল মৌলুর আবেদনের প্রেক্ষিতে দ্রুত বিষয়টির সমাধান করা হবে।

