যশোরে ঘেরে পানি রাখতে ব্রিজের মুখে ইটের গাঁথুনি, স্থায়ী জলাবদ্ধতার শংকা

আরো পড়ুন

যশোর: পানি প্রবাহের প্রবেশ পথ (ব্রিজের মুখ) ইটের গাঁথুনি দিয়ে মাছের ঘেরে পানি ধরে রাখতে বাঁধ নির্মাণ করে করছেন তিন ঘের মালিক। ফলে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার দূর্বাডাঙ্গা ও কেশবপুর উপজেলার গড়ভাঙ্গাসহ চার গ্রামের মানুষ স্থায়ী জলাবদ্ধতার শংকা করছে।

তিন মাছের ঘের মালিক মণিরামপুর উপজেলার হাসাডাঙ্গা গ্রামের মিন্টু রহমান, কেশবপুর উপজেলার বাইশা গ্রামের মিনার রহমান এবং একই উপজেলার আসাদুজ্জামান বিলপাড়ের মানুষকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যে রেখে মাছের ঘের করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ।

এমনিতেই ভবদহের অভিশাপে বর্ষা মৌসুমসহ বছরের সিংহভাগ সময় এ অঞ্চলের মানুষ জলাবদ্ধতায় অবর্ণনীয় কষ্টে দিনাপতিপাত করে আসছেন। তার উপর ‘গোদের ওপর বিষ ফোঁড়া’র মতো সংযোগ সেতু ইট দিয়ে গেঁথে দেয়ায় এ অঞ্চলেল মানুষ আরো ভোগান্তিতে পড়বে বলে দাবি এলাকাবাসির। ব্রিজের মুখ থেকে ইটের গাঁথুনি ভেঙ্গে দিয়ে পানি প্রবাহে দ্বার উন্মোচনের দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

অপরদিকে খড়িলা বিলকে আড়াআড়িভাবে দ্বিখণ্ডিত করে ভেড়ি দিয়ে আরো একটি মাছের ঘের করার সব রকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে করেও পানি প্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। সরেজমিন গেলে এ সংযোগ সেতুর মুখে ইট দিয়ে গেথে দেয়ার চিত্র চোখে পড়ে। মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার মুজগুন্নী, বাটবিলা, ইমাননগর ও গড়ভাঙ্গা গ্রামের মধ্য ভাগ দিয়ে বয়রা, লক্ষিতলা, এবং খড়িলা বিলের পানি পদ্মবিলের সামনে হরিনা খাল হয়ে ডায়ের খালে গিয়ে পড়ে। এই চার গ্রামের বাড়ি ও ফসলি জমির পানি এভাবে প্রবাহিত হয়ে আসছে। কিন্তু সংযোগ সেতুর মুখ গেঁথে দেয়ায় পানি প্রবাহের পথ রুদ্ধ করে কৃত্রিমভাবে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করার পায়তারা করা হচ্ছে।

বিলপাড়ের এরশাদ আলী, রোজিনা, এন্তাজ মোড়ল, করিমন নেছা, নরিম হোসেনসহ একাধিক নারী-পুরুষ অভিয়োগ করে বলেন, ঘের না থাকাতে বাড়ি-ঘরে পানি উঠে। এবার ঘের হলে বাড়ি-ঘর ছেড়ে চলে যেতে হবে।

এলাকাবাসী আরো বলেন, স্থানীয় আব্দুল মজিদ গাজী, সেলিম হোসেনসহ কয়েকজন মিলে মাছের ঘের করতে গ্রামের মানুষের কাছ থেকে জমি নিয়ে দিচ্ছেন না।

অনেকেই বলেন, ব্রিজের মুখ ইট দিয়ে গেঁথে আটকিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে করে তারা সারা বছরই জলাবদ্ধ হয়ে পড়বে। এভাবে অপরিকল্পিত মাছের ঘের বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

অভিযুক্ত মিনার রহমান, মিন্টু রহমান ও আসাদুজ্জামান প্রায় একই সুরে কথা বলেন, ব্রিজের মুখে ইট দিয়ে গাঁথা হলেও লোহার গেট করা হয়েছে। এতে করে পানি বেশি হলে গেট উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, এত কিছু বলে কইয়ে সব হয় না।

মণিরামপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার ঘোষ বলেন, ব্রিজের মুখ আটকিয়ে দিয়ে কোনোভাবেই মাছের ঘের করতে পারবে না। এটা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ।

মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ