ছাত্রাবস্থায়ই অপরাধে জড়ান স্কুলশিক্ষকের ছেলে শুটার মাসুম

আরো পড়ুন

শুটার মাসুমের বাবা স্কুলশিক্ষক। মা গৃহিণী। দুই ভাই, এক বোন। তাদের মধ্যে সবার ছোট মাসুম মোহাম্মদ। কলেজে পড়ার সময়ই মাসুম অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। পরে পরিণত হন ভাড়াটে খুনিতে। অপরাধজগতে পরিচিতি পান শুটার হিসেবে।

ঢাকার মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ওরফে টিপুকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গত রবিবার সকালে বগুড়া থেকে মাসুমকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পুলিশ বলছে, তিনিই মামলা থেকে বাঁচিয়ে দেয়া, সুবিধা পাইয়ে দেয়া এবং টাকার বিনিময়ে জাহিদুলকে গুলি করে হত্যা করেছেন।

মাসুমের মা-বাবা থাকেন রাজধানীর পশ্চিম গোড়ান এলাকায় নিজেদের বাড়িতে। মাসুম স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে থাকতেন খিলগাঁও এলাকায়। গতকাল সোমবার গোড়ানে গিয়ে মাসুমের পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার সঙ্গে মা, বাবা, মা ও বোনের এক দশকের বেশি সময় ধরে কোনো যোগাযোগ ছিল না।

মাসুমের বড় বোন নিপা আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন মাসুম বাড়ি আসেন না। তার সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই।

গোড়ানে মাসুমের পরিবারের প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, মাসুম যখন এলাকায় থাকতেন, তখন তারা তাকে ভদ্র ছেলে হিসেবেই জানতেন। ভালো ছাত্র হিসেবে এলাকায় সুনামও ছিল।

অবশ্য স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, কলেজে পড়া অবস্থায় সঙ্গদোষে মাসুম অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। শিক্ষক বাবা ছেলের এমন পরিণতি মেনে নিতে পারেননি। তাই ছেলেকে তিনি প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলতেন। একপর্যায়ে মাসুম বাড়ি ছাড়ে।

জাহিদুল খুনের মামলায় গ্রেফতারের পর গণমাধ্যমে প্রকাশিত মাসুমের ছবি দেখে প্রথমে চিনতেই পারেননি গোড়ানে তাদের প্রতিবেশী মোমেন।

তিনি বলেন, ছেলেটি আমাদের চোখের সামনে বড় হয়েছে। ছোটবেলায় খুবই ভদ্র ছিল। কলেজে ওঠার পর বাজে ছেলেদের সঙ্গে মিশতে শুরু করে।

ডিবি সূত্র বলছে, মাসুম অপরাধে জড়িয়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত শরীফ নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা ছিল। মাসুম জিজ্ঞাসাবাদে হাবিব নামে ছাত্রদলের এক নেতাকেও গুলি করার কথা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় পাঁচটির মতো মামলা রয়েছে।

ডিবির একটি সূত্র বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে মাসুম খিলগাঁও এলাকার সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতার আশ্রয়ে এসব অপরাধ করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। ওই নেতা এখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তার সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছে ডিবি।

ডিবির দাবি, ঢাকায় গত বৃহস্পতিবার জাহিদুলকে খুনের পর রাত ১১টার দিকে খিলগাঁও এলাকায় গিয়ে এক বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা দেন মাসুম। পরে বাসায় গিয়ে স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করেন। পরের দিন বাসা থেকে বেরিয়ে আর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। সন্ধ্যার পর স্ত্রীকে ফোন করে বলেন, তিনি কয়েক দিন বাইরে থাকবেন। ওই রাতেই এক বন্ধুর মাধ্যমে বাসাভাড়ার জন্য স্ত্রীর কাছে ২০ হাজার টাকা পাঠান তিনি।

এদিকে জাহিদুল ও একই ঘটনায় এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত কলেজছাত্রী সামিয়া আফরান জামাল হত্যা মামলায় মাসুমকে সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। গতকাল ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট (এসিএমএম) তোফাজ্জল হোসেন এ আদেশ দেন।

ডিবির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার রিফাত রহমান শামীম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুম কিছু তথ্য দিয়েছেন। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হবে।

হত্যার ঘটনায় জাহিদুলের স্ত্রী ফারহানা ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ