প্রায় সাত বছর ঝুলিয়ে রেখে ইউক্রেনে হামলার ১০ দিন পর ৫ মার্চ বাংলাদেশি আলু রফতানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে রাশিয়া।
এমন একসময় রাশিয়া নিষেধাজ্ঞাটি তুলে দিয়েছে, যখন শুধু বাংলাদেশ কেন রাশিয়ার সঙ্গে কোনো দেশই স্বাভাবিক লেনদেন করতে পারছে না। ফলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার আপাতত কাগুজে সুবিধা হয়েই থাকছে।
বাংলাদেশের রফতানিকারকেরা এখন আশা করছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর রুশ আমদানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ইতিবাচক ফল আসতে পারে।
‘ব্রাউন ড্রাউট’ নামক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব পাওয়ার কথা বলে ২০১৫ সালের ৬ মে বাংলাদেশি আলু আমদানির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রাশিয়ার ফেডারেল সার্ভিস ফর ভেটেরিনারি অ্যান্ড ফাইটোস্যানিটারি সার্ভিল্যান্স। অ্যাগ্রি কনসার্ন নামের একটি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের আলুতে ওই ব্যাকটেরিয়া ধরা পড়ে।
রফতানিকারকেরা জানান, রাশিয়া তখন যেসব শর্ত দেয়, সেগুলো বাংলাদেশ বহু আগেই পূরণ করলেও এত দিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়নি।
আলু রফতানির আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং উৎপাদনপ্রক্রিয়া যাচাইয়ের তথ্যও তখন জানতে চায় রাশিয়া। কৃষি মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের উদ্বৃত্ত আলু রফতানির জন্য যখন রাশিয়াকে সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে ভাবছিল, তখনই দেশটি নিষেধাজ্ঞা দেয়।
এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, আলু রফতানি জন্য রাশিয়া একটি বড় বাজার। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে আমরা খুশি। এখন রাশিয়ার আমদানিকারকেরা যে মানের আলু চান, সে মানের আলু উৎপাদনে আমাদের মনোযোগ বাড়ানো দরকার। তাহলেই রাশিয়ার বাজারটি আমাদের পক্ষে ভালোভাবে ধরা সম্ভব।
উল্লেখ্য, রাশিয়ার পাশাপাশি ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের মানুষের অন্যতম প্রধান খাদ্যগুলোর একটি হচ্ছে আলু।
রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দুদিন পর ৭ মার্চ ঢাকায় রুশ দূতাবাস বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রথম এ তথ্য জানায়। তার আগে থেকেই বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক আলু রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে ঢাকায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকসান্দার ভি মান্টিটস্কিকে অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা জানিয়ে ১৩ মার্চ বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষকে চিঠি দেয়। আর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে বাংলাদেশ আলু রফতানিকারক সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এ তথ্য জানায়।
বাংলাদেশ আলু রফতানিকারক সমিতির সভাপতি ও ফেরদৌস বায়োটেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফেরদৌসী বেগম বলেন, রাশিয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। তবে অনেক দিন রফতানি বন্ধ থাকায় সেই দেশের আমদানিকারকদের নতুন করে খুঁজে বের করতে হবে। এখন ইপিবির আয়োজনে রাশিয়ায় একটা রোড শো হলে ভালো হবে।

