যশোরে কালেক্টরেট সোসাইটির প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে যশোরে প্রাচীনকালে যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত দূর্লভ বস্তুর দুই দিন ব্যাপী প্রদর্শনী অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। যশোর জিলা স্কুলে এ প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (২৫ মার্চ) এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন যশোর জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান।
দুইদিন ব্যাপী এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন প্রায় আট জন এন্টিক সংগ্রাহক। প্রদর্শনীতে এন্টিক সংগ্রাহকদের স্ট্রলগুলোর মধ্যে সবথেকে বড় তাৎপর্যপূর্ণ স্ট্রলটি হলো বঙ্গবন্ধু প্রদর্শনী। এ বঙ্গবন্ধু প্রদর্শনীর সংগ্রাহক লুতফর রহমান লাল্টু।
বঙ্গবন্ধু প্রদর্শনীতে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি, বঙ্গবন্ধু যে ধরনের মাইকে কথা বলে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন সে ধরনের মাইক, বঙ্গবন্ধুর প্রতীক নৌকা, প্রাচীনকালে কৃষকদের ব্যবহৃত হুক্কা পাইপ, যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত রেডিও ও ক্যাসেট, বঙ্গবন্ধু ডাকে বাঙালী জাতি যে সকল জিনিসপত্র নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে ঝাপিয়ে পড়েছিলো সেই তরবারি, ঢাল, বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র এবং পাক হানাদাররা যে বেয়োনেট ব্যাবহার করে বাঙালীদের হত্যা করেছিলো সেই বেয়োনেট এবং স্বাধীন বাংলাদেশের খোদাই করা মানচিত্র।
এ ছাড়াও লাল্টুর প্রদর্শনীতে রয়েছে, বিভিন্ন দেশের বিলুপ্ত হওয়া মুদ্রা, আগে যুগে ব্যবহৃত কয়লার কাপড় ঘষা যন্ত্র, কলের গান, আলো জ্বালানোর কাজে ব্যবহৃত বস্তু, আগের যুগে ব্যবহৃত টেলিফোনে এবং যুদ্ধের সময় বয়বহৃত নানা মডেলের ক্যামেরা, বিভিন্ন ধরনের বিলুপ্ত হওয়া লটারি ও ডাকটিকেট সহ আরও অনেক কিছু।
লুতফর রহমান লাল্টু বলেন, আমি ১৯৯৫ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে ঘুরে আমার নজরে পড়া প্রাচীনকালে ব্যবহৃত দূর্লভ এ সকল বস্তু একটি একটি করে সংগ্রহ করেছি। যা বর্তমান প্রজন্মের কাছে আমাদের যুদ্ধকালীন সময়ের পরিচিতি ও ইতিহাস তুলে ধরে। এবং বর্তমান প্রজন্মের কাছে এ সকল বস্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আরও গাঢ় করে। খুলনা বিভাগের বেশ কয়েকটি স্কুল ও প্রতিষ্ঠানে আমি মোট ১২ টি প্রদর্শনীতে আমার এই সংগ্রহ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছি।
উদ্বোধনে জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, প্রাচীন ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হয়। যশোর কালেক্টরেট সোসাইটি সংগঠনের সদস্যরা এই ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে। এখানে প্রদর্শনী পরিদর্শনে এসে জাতির পিতার অনেক সংগ্রহ দেখলাম, কলের গান শুনেছি ও দেখেছি, কৃষকেরা আগের যুগে যে হুক্কা ব্যবহার করতো সেগুলো দেখলাম। এছাড়া আগের যুগে মানুষ যে সকল জিনিসপত্র ব্যবহার করতো কিন্তু এখন কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে সেগুলো এখানে প্রদর্শনীতে দেখলাম। এবং এগুলো দেখে আত্যান্ত অবির্ভুত। এন্টিক সংগ্রাহকদের এ সকল সংগ্রহ যদি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোথাও রাখতে হয় সে বিষয়ে আমরা কাজ করতে পারি যদি সংগঠনের সদস্যরা আগ্রহী হয় তাহলে।
যশোর জেলা শিক্ষা অফিসার একেএম গোলাম আযম বলেন, প্রাচীনকালের ঐতিহ্য সংগ্রহ করে রেখেছে এই সংগঠনের সদস্যরা সেগুলো দেখে আমি অবির্ভুত। এখানে এ সকল প্রদর্শনী দেখে বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা প্রাচীনকাল এবং যুদ্ধকালীন সময়ের অনেক ধারনা পাবে। তাদের মধ্যে স্বাধীনতার চেতনা আরও উদ্দুদ্ধ হবে।
ছেলেকে সাথে নিয়ে প্রদর্শনী দেখতে আসা শহরের বেজপাড়া এলাকার তপু বিশ্বাস বলেন, আমি এখানে প্রদর্শনী দেখতে এসেছি, সাথে করে ছেলেকেও নিয়ে এসেছি। দেখে খুব ভালো লাগছে। এগুলো যেহেতু এখন আর দেখা যায় না সেহেতু এগুলো এখনকার প্রজন্মের কাছে তৎকালীন সময় সম্পর্কে শিক্ষানীয় বড় ভুমিকা রাখে।
তপু বিশ্বাসের ছেলে যশোর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছাত্র তীর্থ বলে, আমার এ প্রদর্শনী দেখে অনেক আনন্দ লাগছে। আমি ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্র, সেখানে এ সম্পর্কে পুরোপুরি ধারনা হয়ে ওঠে না আমাদের। এজন্য এখানে এসে প্রাচীনকালের অনেক বস্তুর সাথে পরিচিত হচ্ছি এবং জানছি।

