যশোর প্রতিনিধি : করোনার টাকা গায়েব ঘটনা ফাঁসের পর এবার যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সরকারের রাজস্ব ১৩ কোটি ৫৭ লাখ ২১ হাজার ১০৯ টাকা ৯০ পয়সার অডিট আপত্তি ফাঁস হয়েছে। চাকরি বিবরণী, প্রত্যাশিত শেষ বেতন সনদ (ইএলপিসি), অডিট আপত্তি নেই মর্মে প্রত্যয়নপত্র মোতাবেক আর্থিক ব্যবস্থাপনা, অডিট ইউনিটে রক্ষিত অডিট আপত্তি সংশ্লিষ্ট নথি ও পরীক্ষার রিপোর্ট সংক্রান্ত বিষয়ে এই অডিট আপত্তি তোলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও অডিট ইউনিট।
গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের অডিট আপত্তি সংক্রান্ত কাগজপত্র চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলেও বিষয়টি এতোদিন গোপন ছিলো। অডিট আপত্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে মুঠোফোনে হাসপাতালের তত্তাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান জানান, সাবেক এক তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালনকালের এই অডিট আপত্তি।
জানা গেছে, অডিট আপত্তির মধ্যে রয়েছে ঠিকাদারের কাছ থেকে হিসাবরক্ষক নির্ধারিত হারে উৎস কর কর্তন না করায় ৩৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩৩৩ টাকা রাজস্ব ক্ষতি, সরবরাহকারীর কাছ থেকে নির্ধারিত হারে উৎস্যে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) কর্তন না করায় ৫৬ লাখ ৮৭ হাজার ৩৬১ টাকা রাজস্ব ক্ষতি, অপ্রয়োজনীভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষার পেপার চাহিদার মাধ্যমে স্টোর হতে গ্রহণ করায় সরকারের আর্থিক অপচয় ৩৯ লাখ, ৩৮ হাজার ১৬০ টাকা, সরবরাহকারীর নিকট থেকে পারফরম্যান্স সিকিউরিটি বাবদ ৮৪ লাখ ৯০ হাজার ৯৩৫ টাকা ৯০ পয়সা গ্রহণ না করা ও অনিয়মিতভাবে মালামাল ক্রয়, ফ্রি আল্ট্রাসনোগ্রাফী করার কারণে সরকারের আর্থিক ক্ষতি ৮৭ হাজার ৩৪০ টাকা, সরবরাহকারীকে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৭৮ হাজার ৬৫২ টাকা পেমেন্ট ভালো না পেয়েই করা হয়েছে, অপ্রতিক্রিয়াশীল দরপত্র সংগ্রহের কারণে অনিয়মিত অর্থ প্রদানের পরিমান ২ কোটি ৪৫ লাখ,৭৮ হাজার ৫৬১ টাকা ও কোন বার্ষিক সংগ্রহ পরিকল্পনা ছাড়া (এপিপি) এবং সরকারী অনুমান ছাড়াই এমএসআর এবং আসবাবপত্রের জন্য ৬ কোটি ৪৮ লাখ ৮০ হাজার ৭৭৭ টাকা।
সূত্র জানায়, অডিট আপত্তি আসার পরও বিষয়টি প্রথম অবস্থায় গোপন রাখার চেষ্টা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। একটি ঘটনার তদন্ত কমিটি গঠনের পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
সূত্রটি আরও জানায়, হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে আর্থিক অনিয়মের ঘটনা দীর্ঘদিনের। হাসপাতালের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ এই আর্থিক অনিয়মের সাথে জড়িত। নানা প্রতিশ্রুতিতে ঠিকাদারকে ম্যানেজ করে কেউ কেউ কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করে আসছে। এতে করে অসাধুরা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হলেও সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
ইতিমধ্যে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে করোনা পরীক্ষার টাকা গায়েব করার অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। করোনা পরীক্ষার টাকা গায়েব ও কোটি কোটি টাকার অডিট আপত্তির বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের মাঝে জোর আলোচনা চলছে।
এই বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান বলেন, তিনি যোগদানের পর থেকে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের আর্থিক অনিয়ম দুর করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে। আর্থিক অনিয়ম না করার জন্য কড়া সতর্ক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, তার আমলে কোন অডিট আপত্তি হয়নি। বিগত দিনে দায়িত্ব পালনকারী তত্ত্বাবধায়কের আমলের অডিট আপত্তির কাগজ পত্র মন্ত্রনালয় থেকে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে একটি বিষয়ে স্থানীয়ভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।

