ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: মালিকানা দ্বন্দ্বে যশোরের ঝিকরগাছা কাটাখাল খনন, দুই পাড়ের সৌন্দর্য্যবর্ধনে ওয়াকওয়ে নির্মাণসহ একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। অনুমতি না নিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করায় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এক চিঠিতে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে যশোর জেলা পরিষদ। ফলে মুখ থুবড়ে পড়েছে কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প। আগামী বর্ষায় ভাঙনের আশংকায় দিনানিপাত করছে খালপাড়ের বাসিন্দারা। অবশ্য পৌরসভা কতৃপক্ষ বলছে, ওই সম্পত্তি জেলা পরিষদের সেটা তাদের জানা ছিলো না। পৌরসভা মনে করেছিলো ওই সম্পত্তি পানি উন্নয়ন বোর্ডের। সেজন্য তারা সংশ্লিষ্ট দফতরে অনাপত্তিপত্র চেয়েছিলো। পরবর্তীতে আবার জনস্বার্থ, সৌন্দর্য্যবর্ধন ও উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে জেলা পরিষদের কাছে কাজের অনুমতি চেয়েছে ঝিকরগাছা পৌরসভা।
পৌরসভা দফতর থেকে জানা যায়, পৌরসভা এলাকার উন্নয়নে সেকেন্ড সিটি রিজিওন ডেভেলপমেন্ট প্রোজেক্ট এর আওতায় আটটি প্রকল্পে বাইশ কোটি টাকার কাজ চলমান। এরমধ্যে পৌর সদরের কাটাখালের ওপর ৩৬মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ ও খালের দু পাশে ৫’শ মিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ, ভূমি সংরক্ষণ এবং সৌন্দর্য্যবর্ধন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিলো। কিন্তু প্রকল্প সংশ্লিষ্ট জায়গা নিজেদের দাবি করে সেখানকার কাজ বন্ধ রাখার জন্য চিঠি পাঠিয়েছে জেলা পরিষদ।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি জেলা পরিষদ থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, জেলা পরিষদ মালিকানাধীন ৬৮নম্বর কৃষ্ণনগর মৌজায় কাটাখাল নামকস্থানের সৌন্দর্য্যবর্ধন ও উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ রাখতে হবে। একইসাথে খালের উভয় পাশের সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, জীবিত ও মূল্যবান গাছ চিহ্নিত করে নাম্বারিং করার অনুরোধ করা হয়েছে। এই চিঠির ফলে পৌরসভার দুটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ আটকে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌর সদরের কাটাখাল ব্রিজ থেকে শুরু করে খালের দুই পাশে ৫’শ মিটার জায়গার গাছপালা কেটে ফেলা হয়েছে। খালপাড়ে যাদের অবৈধ স্থাপনা ছিলো তাদেরকে জায়গা খালি করে দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিছুটা খনন কাজ সম্পন্ন করেছে। তবে কাজ বন্ধ থাকলে আগামী বর্ষা মৌসুমে খালের পাড় ভাঙনে স্থানীয়দের জমি ও স্থাপনা বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গিয়েছে।
খালপাড়ের বাসিন্দা আবু তাহের জানান, চল্লিশ বছর পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি এখানে বসবাস করছেন। উন্নয়ন জন্য এখন জায়গা খালি করে দিতে হবে। পৌরসভার নির্দেশে খালপাড়ের বিভিন্ন গাছপালা, বাঁশঝাড় কেটে ফেলা হয়েছে। এখন যদি বৃষ্টি শুরু হয় তাহলে পানির চাপে খালের দু’ধার ভেঙ্গে যাবে। বাড়ি-ঘরসহ অন্যান্য স্থাপনা খালের মধ্যে বিলীন হয়ে যাব। কারণ আগে গাছের শেঁকড়ে মাটি আকঁড়ে ছিলো এখন আর গাছ নেই। দ্রুত খাল খননসহ পাড় বেঁধে দেয়া হবে এটাই তাদের চাওয়া।
সেবা সংগঠনের সভাপতি মাষ্টার আশরাফ উজ্জামান বাবু জানান, উন্নয়নের স্বার্থে খালপাড়ের বাসিন্দারা জায়গা খালি করে দিচ্ছে। এখন যদি বর্ষা মৌসুমের আগে খালের দুই ধার না বাঁধা হয় তাহলে বড় বড় স্থাপনাও হুমকির মুখে পড়বে। অনেকে তাদের বসতবাড়ি হারাবে। এছাড়া ব্রিজ নির্মাণের ফলে খালের দুই পাশের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা আরো উন্নত হবে। মানুষের কষ্ট লাঘব হবে।
এ প্রসঙ্গে পৌরসভার মেয়র মোস্তফা আনোয়ার পাশা জানান, কাটাখালের পশ্চিম পাশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠির দূর্ভোগ লাঘবের জন্য পৌরসভা দুটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করেছিলো। এজন্য খালের দুই পাশের ভাঙ্গন বন্ধ করে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণ, বৃক্ষ রোপনসহ সমন্বিত প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এছাড়া ছাত্র ছাত্রীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতের পথ সুগম করা, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের পরিবহনের সুবিধার্থে একটি ব্রিজ নির্মাণ করার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি শেষ হলে এই এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারি জমি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা পেতো। জেলা পরিষদ ঐ জায়গার মালিকানা দাবি করে কাজ বন্ধ রাখতে চিঠি দিয়েছে তাই সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। সেই সাথে জেলা পরিষদকে সকল বিষয় অবহিত করে অনাপত্তি পত্র চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, খুব দ্রুত অনাপত্তিপত্র পেয়ে উন্নয়ন প্রকল্প দু’টির কাজ আবারো শুরু হবে।
যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ-উজ- জামান জানান, ঝিকরগাছা পৌরসভাকে কাজ বন্ধের জন্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের সম্পদের ব্যবহারের জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে, নির্দিষ্ট ফর্মালিটি আছে। জেলা পরিষদের মিটিং এ এই বিষয়ে আলোচনা চলছে। কাজ শুরুর ব্যাপারে দ্রুতই একটি সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
উল্লেখ্য সিআরডিপি-২ প্রজেক্টের আওতায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে ঝিকরগাছা পৌরসভায় মোট আটটি ক্যাটাগরিতে ২২কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান। এক বছর মেয়াদের এই প্রকল্পটি মোজাহার এন্টারপ্রাইজ এবং শামিম চাকলাদার কনস্ট্রাকশন যৌথভাবে সম্পাদন করছে।

