যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় জোড়া খুনের মামলায় এক আসামির মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সিরাজুল ইসলাম উপজেলার ভাটবিলা গ্রামের বাসিন্দা।
বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) যশোরের অতিরিক্ত ও দায়রা জজ (১ম আদালত) মোস্তফা কামাল এ আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পিপি বিমল কুমার রায়।
তিনি জানান, ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি আসামি সিরাজুল ইসলাম একই গ্রামের জমির সরদারের মেয়ে শারমিন ও ভাইপো কবীর হোসেনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এছাড়া এই মামলায় তিনজনকে খালাস দেয়া হয়েছে। তারা হলেন, সিরাজুলের স্ত্রী শিরিনা বেগম, একই গ্রামের আমিন সরদারের স্ত্রী করিমন নেছা ও মোমিন সরদারের স্ত্রী আরফা খাতুন ওরফে আরিফা।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মণিরামপুর উপজেলার ভাটবিলা মৌজার ৩৯৫ নং দাগের ছয় বিঘা জমি নিয়ে স্থানীয় জমির সরদারের সাথে আসামি তখন জমির সরদার ও তার পরিবারের সদস্যরা সিরাজুলদের বাঁধা দেয়। পরে সিরাজুল হুমকি দিয়ে চলে যায়। কিছু সময় পর সিরাজুল গাছি দা নিয়ে এসে জমির সরদার ও তার স্ত্রী রাশিদা বেগমকে ধাওয়া করে। এসময় জমির ও তার স্ত্রী দৌড়ে পালিয়ে যায়। তখন জমিরের ১৪ বছর বয়সী মেয়ে শারমিন ও ১১ বছর বয়সী ভাইপো কবীর হোসেনকে ধাওয়া দেয় সিরাজুল। প্রথমে শারমিনকে ও পরে তার ভাইপো কবীরকে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা সিরাজুলের বাড়িতে যেয়ে তাকে না পেয়ে ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিরাজুলসহ ছয়জনকে আসামি করে মণিরামপুর থানায় মামলা করেন জমির। মণিরামপুর থানার এসআই জামিরুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করে চারজনকে অভিযুক্ত করে ২০১২ সালের ৮ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট জমা দেন। ওই এলাকার আমিন সরদার ও মোমিন সরদারকে চার্জশিটে অব্যাহতির আবেদন করেন।

