সাতক্ষীরা: আজ ২৮ ফেব্রুয়ারী, সাতক্ষীরায় জামায়াত-শিবিরের সহিংসতার ৯ বর্ষপূর্তি। ২০১৩ সালের এদিনে জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর যুদ্ধাপরাধ মামলার রায়কে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরায় জামায়াত শিবির ব্যাপক সহিংসতা চালায়। ওই দিন দুপুরের পর জামায়াত শিবিরে কয়েক হাজার নেতাকর্মী সশস্ত্র অবস্থায় শহরের সার্কিট হাউজের পাশে সাতক্ষীরায় সিটি কলেজ কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি প্রভাষক এবিএম মামুন এর বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। এরপর পুলিশের সাথে সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে সার্কিট হাউজ এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। হামলায় পুলিশ, সাংবাদিক সাধারণ পথচারীসহ প্রায় শতাধিক জনসাধারণ আহত হয়।
সেদিন সাতক্ষীরা-যশোর সড়কের কদমতলা বাজার থেকে বকচরা মোড়সহ গোটা সাতক্ষীরাজুড়ে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা তাণ্ডব চালিয়ে প্রায় শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে এঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ বাদী হয়ে তৎকালীন জেলা জামায়াতের আমীর যুদ্ধাপরাধী মামলার আসামি অধ্যক্ষ আবদুল খালেক মন্ডল, যুগ্ম সম্পাদক জেনারেল আজিজুর রহমান, জামায়াতের প্রচার সম্পাদক ও স্থানীয় দৈনিক আলোর পরশের তৎকালীন সম্পাদক আলতাফ হোসাইন, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর রফিকুল ইসলাম, সদর পশ্চিম থানা জামাতের আমীর মাওলানা শাহাদাৎ হোসেন, কাশেমপুর হাজামপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আলী, কাশেমপুর গ্রামের মাওলানা ঈমান আলী, ফিংড়ীর জামায়াত নেতা হাবিবুর রহমানসহ ১৯০ জন আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এরপর কেটে গেছে নয় বছর। তবে আলোচিত ছাত্রলীগ নেতা মামুন হত্যার বিচার হয়নি এখনো।
সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু বলেন, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর জেলাজুড়ে জামায়াত শিবিরের তাণ্ডব শুরু হয়। শহরতলীর বকচরা মোড়ে পুলিশ ও বিজিবির ধাওয়া খেয়ে কদমতলার দিকে ফেরার পথে জামায়াত শিবিরের নেতা-কর্মীরা প্রথমে মামুনের বাড়িতে প্রবেশ করে মামুনকে ডেকে তুলে মুড়ি ও পানি খেতে চায়। পরে জামায়াত-শিবিরের কয়েকশ নেতা-কর্মী এসে ছাত্রলীগ করার অপরাধে মামুনকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এক পর্যায়ে তারা মামুনের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ও বাবা শহীদুল ইসলামসহ তার ছোট বোনকে মারপিট করে ঘরের নীচের তলার দরজায় তালা মেরে ঘরে পেট্রোল ঢেলে ও গান পাউডার ছড়িয়ে আগুণ ধরিয়ে দেয়। তিনি আরো বলেন, ২০১৩ সাল থেকে অদ্যাবধি জামায়াত-শিবিরের হাতে নিহত সকল দলীয় নেতাকর্মীদের হত্যা মামলার বিচার কাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে বারবার কথা বলা হয়েছে। এত দিনেও বিচার কাজ শেষ না হওয়ায় আওয়ামী লীগের এই নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, জামায়াত শিবিরের সহিংসতায় ছাত্রলীগ নেতা মামুন হত্যাকাণ্ডের পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে কেউ মামলা করতে সাহস পায়নি। পরে উর্ধতন কর্তপক্ষের নির্দেশে তৎকালীন সাতক্ষীরা সদর থানার উপ-পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৯০ জনের নাম উল্লেখসহ ১০/১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ কিছু আসামিদের গ্রেফতার করলেও দ্রুত বিচারকাজ শেষ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন এবং মামুন হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল আসামিকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার কাজ সম্পন্ন করার জোর দাবি জানান আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা।
সাতক্ষীরা জজকোর্টের সরকার কৌশলী (পিপি) এ্যাড. আব্দুল লতিফ বলেন, মামুন হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে, দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

