ঝিকরগাছার সেই তামান্নার সঙ্গে কথা বললেন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা

আরো পড়ুন

ডেস্ক রিপোর্ট: পা দিয়ে লিখে পরীক্ষায় টানা চতুর্থবার জিপিএ-৫ পাওয়া অদম্য তামান্না আক্তার নূরার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা। গত ২৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করাসহ দুটি স্বপ্নের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি লিখেছিলেন তামান্না। সেই চিঠির প্রেক্ষিতে সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ও সন্ধ্যায় পৃথক দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে কল দিয়ে তামান্নাকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা। একই সঙ্গে তারা দুই বোনই তামান্নার স্বপ্নপূরণে সব সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া আলীপুরের রওশন আলী ও খাদিজা পারভীন শিল্পী দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে বড় তামান্না আক্তার নূরা। তামান্না যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন। গতকাল রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত ফলাফলে এসএসসির মতো এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি।

এর আগে তামান্না ২০১৯ সালে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া জনাব আলী খান মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। একই ফল করেছিলেন পিইসি ও জেএসসিতেও। তার বাবা রওশন আলী ঝিকরগাছা উপজেলার ছোট পৌদাউলিয়া মহিলা দাখিল মাদরাসার (ননএমপিও) শিক্ষক। মা খাদিজা পারভীন গৃহিণী। তামান্নার ছোট বোন মুমতাহিনা রশ্মি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। ভাই মুহিবুল্লাহ তাজ প্রথম শ্রেণিতে পড়ে।

সোমবার ভালোবাসা দিবসে তার জীবনে ঘটে যায় ভিন্ন ঘটনা। সন্ধ্যার দিকে তামান্না পড়াশোনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তখন ঘড়ির কাটায় সন্ধ্যা ৬টা ৫৬ মিনিট। হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে ফোন। ফোন রিসিভ করতেই তামান্নার ফোনের ওপাশ থেকে এক নারী বলে উঠলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলছিলাম। আমি কি তামান্নার সঙ্গে কথা বলছি? ফোনের ওপাশের কণ্ঠস্বর শুনে তামান্নার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রী তাকে অভিনন্দন দিচ্ছেন!

এ সময় তামান্নার মুখে আর কথা বলতে পারছিলেন না। আবেগের চাপ সামলাতে না পেরে কেঁদেই ফেললেন তামান্না। তামান্নার সে কান্নার সাক্ষী গোটা পরিবার। একপর্যায়ে কান্না থামাতে বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কান্না থামিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দেন তামান্না। এ সময় তামান্না তার (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা এবং তার স্বপ্ন পূরণে প্রধানমন্ত্রীকে পাশে চান।

প্রধানমন্ত্রী তার স্বপ্ন পূরণে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তখন তামান্নাকে “বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টে” একটা আবেদন করার পরামর্শ দেন। ওই ট্রাস্টের মাধ্যমে তাকে সব সহযোগিতা দেবেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তামান্নার সঙ্গে টানা চার মিনিটের কথোপোকথনে প্রধানমন্ত্রী তামান্নাকে সাহস হারাতে নিষেধ করেন। সাহস আর মনোবল থাকলে তামান্না অন্য উচ্চতায় পৌঁছাতে পারবে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তামান্নার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফোন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা। ফোন রিসিভ করতেই তামান্নার ফোনের ওপাশের নারী বলেন, আমি লন্ডন থেকে শেখ রেহানা বলছি। আমি কি তামান্না নূরার সঙ্গে কথা বলছি? তখন কান্না করতে থাকেন তামান্না। কান্না থামাতে বলে শেখ রেহানা বলেন, কেঁদো না। টানা ভালো রেজাল্ট করায় তোমাকে অভিনন্দন। তোমার সংগ্রামের কথা শুনেছি। তুমি খুব সাহসী। তুমি এগিয়ে যাও। আমরা দুই বোন বেঁচে থাকা পর্যন্ত তোমার সহযোগিতা করে যাব। যারা সাহস রেখে চলে তারা কখনো হেরে যায় না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পেরে দারুন খুশি তামান্না। তিনি বলেন, প্রথমে দুইজনের সঙ্গে কথা বলতেই ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। প্রবল মধুর আবেগে কাঁপছিল আমার ভেতরটা। মনে হচ্ছে আমার জীবনে সৃষ্টি হয়েছে ইতিহাস। সেই অনুভূতি তো আপনাদের বুঝাতে পারব না। এতোটাই আনন্দিত হয়েছিলাম যে, হাসতে পারিনি, কেঁদে ফেলেছিলাম। প্রধানমন্ত্রীকে আমার জীবনের গল্প শুনাতে চেয়েছিলাম। আজ তিনি আমাকে নিয়মিত ভালোভাবে পড়াশোনা এবং নিজের যত্ন নিতে বলেছেন।

এ বিষয়ে তামান্নার বাবা রওশন আলী বলেন, গত ২৪ জানুয়ারি যশোরের জেলা প্রশাসকের পরামর্শে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর চিঠি লিখেছেন তামান্না নূরা। তামান্নার লেখা চিঠি প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, তারপর যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে তামান্নার আঁকা বিভিন্ন ছবিও দেওয়া হয় ওই চিঠির সঙ্গে। পরম করুণাময় আল্লাহর অসীম দয়ায় তামান্নার সঙ্গে আজকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা কথা বলেছেন। আশা করি সবার দোয়ায় তামান্নার স্বপ্ন পূরণ হবে।

এদিকে তামান্নার ভালো ফলাফলে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন টিম পজিটিভ বাংলাদেশের মুখপাত্র গোলাম রাব্বানী। নিজের ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, তামান্নাকে দেখতে গিয়ে তাকে কথা দিয়েছিলাম তামান্নার জীবন সংগ্রামে সবসময়ই পাশে থাকবে টিম পজিটিজ বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে তাকে এককালীন ৫০ হাজার টাকা, পরবর্তীতে দুই ধাপে ৩০ হাজার টাকা অর্থসহায়তাসহ বিভিন্ন সময়ে সাধ্যমতো সহায়তার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া টিম পজিটিভ বাংলাদেশের অনুরোধে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টু এবং উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম তামান্নার বাড়ি থেকে স্কুলে যাতায়াতের সুবিধার্থে ঝোপঝাড় কেটে মূল রাস্তা থেকে বাড়ি পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার রাস্তা করে দিয়েছেন। দেশরত্ন শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে দুর্যোগ সহনীয় একটি ঘরও পান তামান্না। তামান্নার শিক্ষাজীবনে টিম পজিটিভ থেকে মেধাবৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ