৮৫ টাকা কমলেও যশোরে আগের মূল্যে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার

আরো পড়ুন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপি গ্যাসের দাম কমানোর ঘোষণা দিলেও যশোরে তা মানা হচ্ছে না। সিলিন্ডার প্রতি ৮৫ টাকা দাম কমালেও বাজারে কোন প্রভাব পড়েনি। খুচরা দোকানিরা বলছেন, তারা আগেই বেশি দামে কিনেছেন। এখন কোম্পানিগুলো দাম না কমালে নির্ধারিত দামে তাদের পক্ষে বিক্রি করা সম্ভব নয়। এ নিয়ে অনেক ক্রেতার সঙ্গে বিক্রেতাদের বাগবিতন্ডা হচ্ছে।
ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশের বাজারে এলপি গ্যাস আসার পর থেকেই জরুরি এ পণ্যটি নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে মানুষের ঘরে ঘরে রান্নার এ গ্যাস পৌঁছে গেলে শুরু হয় অর্থ আদায়ের প্রতিযোগিতা। এ অবস্থা নিয়ন্ত্রণে সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করে। চলতি বছরের গত ১২ এপ্রিল এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন দেশে প্রথমবারের মত এলপি গ্যাসের ১২ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য নির্ধারণ করে ৯৭৫ টাকা। পর্যায়ক্রমে গত ১০ অক্টোবর এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এক হাজার ২৫৯ টাকায় ১২ কেজির এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারের মূল্য নির্ধারণ করে। কিন্তু ওই সময়ে এ দামে যশোরের কোথাও এলপি গ্যাসের বেচাকেনা হয়নি। শহরের বিভিন্ন দোকানে ১৩শ’ থেকে সাড়ে ১৩শ’ টাকায় এলপি গ্যাস বিক্রি হয়েছে। সর্বশেষ গত ২ ডিসেম্বর ১২ কেজি ওজনের এলপি গ্যাসের দাম মূল্য সংযোজন করসহ ১ হাজার ৩১৩ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ২২৮ টাকা করা হয়েছে। যা গত শুক্রবার থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলো বিইআরসি। কিন্তু বিইআরসি নির্দেশনার বৃদ্ধা আঙ্গুলি দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ব্যবসায়ীরা সিলিন্ডার প্রতি ২৫ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত হাতিয়ে নিচ্ছেন। শহরতলীর কোন কোন জায়গায় অতিরিক্ত মূল্যের দ্বিগুণও হাতিয়ে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা।
যশোর শহরের স্টেডিয়ামপাড়া এলাকার বাসিন্দা সেলিম হোসেন বলেন, কয়েক মাস থেকে বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। সরকার এলপিজির মূল্য বেঁধে দিয়েছে। কিন্তু বাজারে এর প্রভাব নেই। সবাইকে বেশি দামেই গ্যাস কিনতে হচ্ছে। কার্যকর করতে না পারলে এমন ঘোষণার দরকার কী? পাড়বাড়ি ভাস্কর্য মোড় এলাকার বাসিন্দা শাহেদ রহমান জানান, গতকাল ওমেরা গ্যাস নিয়েছি ১২৬০ টাকা আর বসুন্ধরা এলপি গ্যাস নিলাম ১৩ শ’ টাকা। অর্থাৎ ৩ ডিসেম্বর থেকে সরকার এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু ৬ তারিখ বাজারে আগের দামেই আছে। এমনকি সরকার সিলিন্ডারের দাম কমিয়েছে এ কথা বলায় বিক্রেতা আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
এ বিষয়ে শহরের হযরত গরীব শাহ মোড়ে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী কাদের এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারীর ছেলে সাজ্জাদুল কাদের অর্ণব বলেন, ৩ ডিসেম্বর থেকে নতুন দামে সিলিন্ডার বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। কিন্তু আমাদের দোকানে যে সিলিন্ডারগুলো রয়েছে সেগুলো আরও আগের কেনা। যে কারণে পুরোনো দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। নতুন সিলিন্ডার আসলে নতুন যে রেট হয়; সেই দামেই বিক্রি করবো। সদর উপজেলা পরিষদের সামনে গ্যাস ব্যবসায়ী নাহিদ এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী তরিকুল ইসলাম বলেন, যদি ডিলাররা আমাদের কম দামে সিলিন্ডার দিতেন তাহলে আমরা অবশ্যই সরকারের দেওয়া নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে পারতাম। এলাকার ডিলাররা এখনো দাম কমাননি। যে কারণে আমরা কমাতে পারছি না। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিব বলেন, সরকার যেহেতু এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সেহেতু বেশি নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। এ বিষয়ে তারা ইতিমধ্যে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। যদি কোন ব্যবসায়ী গ্রাহকের কাছ থেকে এলপি গ্যাসের অতিরিক্ত মূল্য আদায় করে থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ