শীর্ষ সন্ত্রাসী ফিঙে লিটনের ভাগ্নে অস্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে আটক

আরো পড়ুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরে ইমরান হোসেন ইমু নামে এক সন্ত্রাসীকে দুইটি অস্ত্র-গুলিসহ আটক করেছে খুলনার র‌্যাব। সে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী ফিঙে লিটনের স্ত্রী সদর উপজেলার ফতেপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ফাতেমা আনোয়ারের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করে আসছিল। আটক ইমু ফিঙে লিটনের ভাগ্নে এবং যশোর শহরের বারান্দী মোল্যাপাড়ার দুলালের ছেলে। গত রোববার মধ্য রাতে শহরের মণিহার এলাকা থেকে তাকে আটক করে খুলনার র‌্যাব সদস্যরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে ২৪ নম্বর তালিকাভুক্ত যশোরের আনিচুর রহমান ফিঙে লিটন। ফিঙে লিটন দেশের মধ্যে তালিকাভুক্ত হওয়ায় তার পুরো পরিবারটিও নির্বিঘ্নে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে বেড়ায়। ফিঙে লিটনের শ্বশুর আনোয়ার বিডিআর ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির একজন নেতা। মেয়ে ফাতেমা আনোয়ারকে স্বামীর পরিচয় থেকে আড়াল করতে নিজের নামের সাথে নামকরণ করছেন। কয়েক মাস আগে থেকে ফাতেমা আনোয়ার যশোর পৌরসভা থেকে বদলি করে ফতেপুর ইউনিয়নে ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন। ফাতেমা সেখানে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। আর কয়েক মাস আগে থেকেই সেখানে প্রচার প্রচারণা শুরু করেছেন। বিভিন্ন প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে দেহরক্ষী হিসেবে ফিঙে লিটনের আপন ভগ্নিপতি সিরাজুল ইসলাম সিরার ছোট ভাই দুলালের ছেলে ইমরান হোসেন ইমুকে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে সাথে রাখতেন ফাতেমা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনার র‌্যাব সদস্যরা জানতে পেরে গত রোববার মধ্য রাতে যশোর শহরের মণিহার সিনেমা হলের বিপরীতে মশিউর রহমানের চায়ের দোকানের সামনে পাশে অভিযান চালায়। এসময় ইমরান হোসেন ইমুকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ানস্যুটারগান ও ৭ রাউন্ড গুলিএকটি ম্যাগজিন ও দুইটি মোবাইল ফোনসেটসহ আটক করে।

এই ব্যাপারে র‌্যাব খুলনার এসআই আব্দুল খালেক বাদী হয়ে সোমবার সন্ধ্যায় যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই আনসারুল হক সন্ত্রাসী ইমরান হোসেন ইমুকে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে।

এই ব্যাপারে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ তাসমিম আলম বলেছেন অস্ত্র-গুলিসহ র‌্যাব ইমুকে আটকের পর মামলা দিয়েছে। ইমু বিভিন্ন লোকের কাছে র‌্যাবের কাছের লোক বলেও পরিচয় দেয়। আর সেই কারণে বারান্দীপাড়া এলাকার ভৈরব নদী থেকে প্রায় দুই হাজার ট্রাক বালি উত্তোলন করে বিক্রি করেছে।

উল্লেখ্য, ফিঙে লিটনের ভাই ডিম রিপন নেতৃত্ব দিয়ে অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, বোমাবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকা- করে থাকে। আর ফিঙে লিটন ওই সব কাজে অস্ত্র সরবরাহ করে থাকে। যে কারণে বারান্দীপাড়া এলাকায় ফিঙে লিটন বাহিনীর অন্তত দুই ডজন সদস্য ওইসব অপকর্মে লিপ্ত হয়। তাছাড়া ওই বাহিনীতে হোয়াইট কালার কিছু সন্ত্রাসী আছে। তার মধ্যে ফিঙে লিটনের তিন ভগ্নিপতি মাসুদুর রহমান নান্নু, ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরা ও টাক নান্নু, মাসুদুর রহমান নান্নুর ভাই ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাকসুদুর রহমান লাভলু, ভাগ্নে ওরফে ম্যানেজার জনি, মণিহার হলের শরিফুল ইসলাম, হোটেল শাহ আলম, পঙ্খি, ভায়রা পলাশ অন্যতম।

এদিকে ফতেপুর এলাকার জনগণের দাবি অনুযায়ী শীর্ষ সন্ত্রাসী ফিঙে লিটন বাহিনী আগামী ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এলাকায় অস্ত্রের ছড়াছড়ি করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক সৃষ্টি করছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ